এইমুহূর্তে বিশ্বকে বাঁচাতে পারে একমাত্র “হ্যান্ড অফ গড”ই বললেন মারাদোনা

সারা বিশ্ব আজ অসহায় এই করোনা ভাইরাসের জন্য। প্রাণ হারাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। যদিও এর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী প্রানপন লড়াই করে চলেছে তবু এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে একমাত্র পারে ‘হ্যান্ড অফ গড’ বললেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। করোনা এর কারণে বন্ধ হয়েছে সব ধরণের খেলা, আর্জেন্টিনার এক ক্লাব ‘জিমনাসিয়া’-র কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মারাদোনা। যদিও ফলস্বরূপ আহামরি কিছু লাভ হয়নি উল্টো ক্লাব লিগে অবনমনের পথে চলে গেছিল লিগে, স্থান ছিল সবার শেষে সুতরাং এই জিমনাসিয়াই একমাত্র ক্লাব যার ‘করোনা’-র জন্য লাভ হলো কারণ এই বর্তমান পরিস্থতিতে সব খেলা বন্ধ হওয়ার জন্য এর অবনমন হচ্ছে না ওই আর্জেন্টাইন ক্লাবটির। তবে মারাদোনা কোচ হিসাবে ক্লাবের কোনো লাভ না করতে পারলেও ঈশ্বরের হাত দিয়ে তিনি যদি এই ‘করোনা” ঠিক করতে পারতেন তাইলে তিনি বেশি খুশি হতেন। একদা ৮৬-র বিশ্বকাপ কোয়াটার ফাইনালে তিনি কর্নার দিয়ে হেড করতে উঠে হাত দিয়ে ফিলিপ করে ইংলিশ গোলকিপার পিটার শীলটনকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তারপর থেকে তার হাত “হ্যান্ড অফ গড” নাম পরিচিত পরে তিনি ওই একই ম্যাচে বা পায়ে আরেকটি বিশ্ব বিখ্যাত গোল করেন ও স্কোরলাইন ২-১ করে ফাইনালে যান। পরবর্তীতে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ী হয় আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনায় ইতিমধ্যে ৪১১৪ জন করোনা আক্রান্ত। আর তাদের মধ্যে মারা গিয়েছে ২০৭ জন।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ নায়ক বলেন, “এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন স্বাভাবিক করতে পারে একমাত্র “হ্যান্ড অফ গড”। আর সেটা হলে খুব ভালো হয় বিশ্বের জন্য।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

খেলাই যখন ধর্ম, তখন খেলোয়াড়ের কি মৃত্যু হয়

নন্দিনী দাস:- পরপর নক্ষত্রপতন হলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগের প্রাক্কালে পরপর মৃত্যু মানুষের মনকে আরও বেশি ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। বাঙালি একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, সিনেমা, রাজনীতি ও খেলার মত বিষয় হলে আলাদা করে কিছু বলার থাকে না। ঠিক তেমনি ইরফান খান ও ঋষি কাপুরের পর যখন বাংলার ক্রীড়া জগতের এক মহীরুহের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া। তাঁর নাম চুনী গোস্বামী। এই নামে মানুষ বেশি চিনলেও তাঁর আসল নাম ছিল সুবিমল গোস্বামী। অবিভক্ত বাংলার কিশোরগঞ্জ জেলায় তিনি ১৯৩৮ সালের ১৫ই জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁকে একজন বিখ্যাত ফুটবলার হিসেবে চিনলেও অনেকেই এটা জানেন না যে ক্রিকেট এবং হকি খেলাতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন।তবে, ফুটবলার হিসেবেই তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।ভারতবর্ষকে ৩০ টি আন্তর্জাতিক মানের খেলায় তিনি পরিবেশন করেন এবং দলের জন্য প্রায় নয়টা গোল করেন।
মোহনবাগান তাঁর ভালোবাসার জায়গা, তাঁর বিশ্বাসের জায়গা। মাত্র আট বছর বয়সে ১৯৪৬ সালে জুনিয়র টিমে যোগদান করেন এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ঐ দলে থেকে তিনি পরবর্তী সিনিয়র টিমে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে অবসর গ্রহণ করার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাঁর ভালোবাসার ক্লাব মোহনবাগানের সাথে ছিলেন। ১৯৬০-৬৪ পর্যন্ত পাঁচটি সিজনে ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সাফল্যের পথে পৌঁছে দেন।
তাঁর আন্তর্জাতিক মানের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৫ সালের চিনা অলিম্পিকের হাত ধরে।ভারতবর্ষের জন্য প্রায় ৫০ টা আন্তর্জাতিক মানের খেলাতে তিনি অংশগ্রহণ করেন। চিনা অলিম্পিকে ১-০ গোলে তিনি বিজয়ী হন। ১৯৫৮ সালে টোকিওতে বার্মার বিরুদ্ধে গোল দেন, ১৯৫৮ সালের ৩০ শে মে হংকং এর বিরুদ্ধে এশিয়ান গেমসে গোল করেন।১৯৫৯ সালের ১১ ই ডিসেম্বরে সিলেকশন রাউন্ডে ইরানের বিরুদ্ধে গোল দেন।
মেডারকা টুর্নামেন্টেও তিনি মালায়া, কুয়ালালামপুরে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে তিনি গোল দেন এবং থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি উল্লেখযোগ্য ফল করেন।
ফুটবলের পাশাপাশি যখন ক্রিকেটের কথা আসে, তখন প্রথমেই যে কথাটা আসে তা হল ১৯৬২-৬৩ সালে তার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ। একজন ডানহাতি ব্যাটসময়ান হিসেবে ফুটবলের কেরিয়ার থেকে অবসর গ্রহণের পরেই তিনি বাংলার হয়ে ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের রঞ্জি ট্রফি ফাইনালের তিনি বাংলার ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন কিন্তু সেবছর মুম্বাইয়ের কাছে তিনি পরাজিত হন। তাঁর পুরো ক্রিকেট কেরিয়ারে তিনি ৪৬ টা প্রথম সারির ম্যাচ খেলেছেন, ১৫৯২ রান, একশত রানের স্কোর এবং ৪৭টা উইকেট নেন।
বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন এই ব্যক্তিটি হকি খেলার ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শিতা দেখান।২০০৫ সালে তাঁকে কলকাতার শেরিফ পদে নির্বাচন করা হয় এবং তিনি ‘প্রথম প্রেম’ নামক একটি বাংলা সিনেমাতে উল্লেখযোগ্য রোলে ছিলেন। সাউথ ক্লাবেও দীর্ঘদিন লন টেনিস খেলেছিলেন। সারাজীবন নিজেকে সামলে আসা এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ডায়াবেটিস, প্রস্টেট এবং নার্ভের সমস্যা ও ছিল তাঁর। ৩০শে এপ্রিল তাঁর শেষদিন ছিল শুধুমাত্র একজন দেহধারী হিসেবে, তিনি তাঁর কাজ ও রেকর্ডের মাধ্যমে অমর হয়ে থাকবেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য তাঁর প্রতি সঠিকভাবে শ্রদ্ধাজানানোও সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন যাঁর সাথে গভীর বন্ধুত্ব ছিল তাঁর। তিনি চলে গেলেন, অ্যাওয়ার্ড গুলো থেকে গেল।১৯৬২ সালে এশিয়া অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট স্ট্রাইকার অ্যাওয়ার্ড, ১৯৬৩ সালে অর্জুন অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮৩ সালের পদ্মশ্রী অ্যাওয়ার্ড, ২০০৫ সালের মোহন বাগান রত্ন অ্যাওয়ার্ড।
কৃতী সন্তান হিসেবে মোহনবাগানের ইতিহাসে ও বাংলার ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

মোহনবাগান কে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার পথেই ফেডারেশন? আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা

সরকারি ভাবে দ্বিতীয় বারের জন্য মোহনবাগান কে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা এখন সময়ের অপেক্ষা? কারন ফেডারেশন থেকে এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আজ বিকেলে ফেডারেশন লিগ কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
আর তার আগে হঠাৎ করেই আইলিগ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের কভার ফটো বদলে দেওয়া হয়েছে। নতুন ছবিতে সবুজ মেরুন সমর্থকদের উল্লাসের ছবি সকলের নজরে এসেছে। মাঝখানে লেখা, ‘ভারত সেরা মোহনবাগান’। অতএব দ্বিতীয়বারের জন্য মোহনবাগান কে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা এখন সময়ের অপেক্ষা। এমনটাই মনে করছে ক্রীড়া মহল।
উল্লেখ্য করোনা থাবায় চার ম্যাচ বাকি থাকতেই বন্ধ করতে হয়েছে আইলিগ। তবে পয়েন্টের বিচারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহনবাগান। কিন্তু পয়েন্ট টেবিলের পরবর্তী স্থানে কোন ক্লাব কোথায় থাকবে তা পুরো লিগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি তে মোহনবাগান কে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মেনে নেওয়া হবে, নাকি লিগ বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজ বৈঠকে বসছে ফেডারেশন।
যদিও মোহনবাগান কে চ্যাম্পিয়ন মানতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল। ফেডারেশনে চিঠি দিয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের মতামত জানিয়েছে শতবর্ষের ক্লাব। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি হয়, তা জানতে আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

আইলিগ অকার্যকর ঘোষিত হোক, মোহনবাগান-কে চ্যাম্পিয়ন মানতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল

বিশ্বজুড়ে ‘করোনা’ থাবায় মার্চের মাঝেই আইলিগ বন্ধ হয়েছে। যদিও দ্বিতীয়বারের জন্য মোহনবাগান-কে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছে এএফসি। তবে এখুনি সবুজ মেরুন শিবিরকে চ্যাম্পিয়ন মানতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল। উল্টে চলতি আইলিগ যেন অকার্যকর করে দেওয়া হয় এমনই দাবী জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সিও সঞ্জিত সেন। এআইএফএফ এর লিগ কমিটি শনিবার বিকালে বৈঠকে বসবে। তার আগে সব ক্লাবের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। তার উত্তরে চলতি আইলিগ কে অকার্যকর ঘোষনা করার দাবী জানিয়ে ইস্টবেঙ্গল সিও লিখেছেন, “লিগের মোট পুরস্কার মূল্য দুই কোটি পঁচিশ লক্ষ্য টাকা খেলায় অংশ নেওয়া বারোটি ক্লাবের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হোক”। তবে শনিবারের বৈঠকে লাল হলুদ শিবিরের এই দাবী কি আদৌ কার্যকর হবে? উত্তর খুঁজছে ক্রীড়া মহল।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News  আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

মোহনবাগান, ইতিহাস সাক্ষী, পরাধীন ভারতের প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ দেখিয়েছিল

সন্দীপ কুমার রাজচক্রবর্তী:-“সব খেলার সেরা বাঙালির খেলা ফুটবল”, মনে পড়ে মান্না দে র সেই বিখ্যাত গান ধন্যি মেয়ে সিনেমার। হ্যাঁ সত্যি,মাছে ভাতে বাঙালী যেমন ফুটবল খেলাতেও বাঙালী কম কি? আর তারই উদাহরণ মোহনবাগান। ১৯১১-র ২৯ জুলাই , ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে মোহনবাগান ভারতীয় ফুটবলে নতুন অধ্যায় লিখেছিল ৷ মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ের গল্প যেন রুপকথা ৷ আজও গায়ে কাঁটা দেয় প্রতিটি ভারতবাসীর ৷এই আবেগ শুধু বাগান সমর্থকদেরই নয়৷দেশের ছেলেরা সেদিন বুট পরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে খালি পায়েই ময়দানে নেমেছিল ৷জিতেই মাঠ ছেড়েছিল তারা৷দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই ম্যাচের কথাও লেখা থাকবে সোনার অক্ষরে ৷ ২৯ শে জুলাই ১৯১১ , একটি ফুটবল ম্যাচ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম , দুই মিলেমিশে একাকার। আজ থেকে ঠিক ১০৯বছর আগে ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই ব্রিটিশ দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রথম দেশীয় ক্লাব হিসাবে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহন বাগান। দর্শকপূর্ণ মাঠে সেদিন গোরা বনাম দেশীয়দের লড়াইয়ে প্রথমে জ্যাকসনের গোলে এগিয়ে যায় গোরারাই। সেই গোল শোধ করে দেন মোহন বাগান অধিনায়ক শিবদাস ভাদুরি। পরে জয়সূচক গোলটি করে ইতিহাস রচনা করেন অভিলাষ ঘোষ। সেদিনের খেলাটা শুধুমাত্র একটা খেলা হিসাবে নয়, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসাবে দেখেছিলেন এদেশের মানুষ। যে কারনে মোহনবাগানকে সমর্থন করতে সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ববঙ্গ থেকেও লোকেরা ছুটে এসেছিলেন। মোহন বাগানের জয়ের পর মুসলিম মহল্লা বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছিল। উৎসবে সামিল হয়েছিলেন অবাঙালীরাও। এরপর মোহন বাগান, ইস্টবেঙ্গল, মোহামেডান ও অন্যান্য দেশীয় ক্লাবগুলি বহু ব্রিটিশ দলকে হারিয়েছে, অনেক ট্রফি জিতেছে, কিন্তু সেদিনের জয়টা অমর হয়ে থাকবে। মোহনবাগানের সেই এগারোতে ছিলেন : হীরালাল মুখার্জী (কিপার), ভুতি সুকুল (রাইট ব্যাক), সুধীর কুমার চ্যাটার্জী (লেফট ব্যাক), মনমোহন মুখার্জী (রাইট হাফ), রাজেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত (সেন্টার হাফ), নীলমাধব ভট্টাচার্য্য (লেফট হাফ), জ্যোতিন্দ্রনাথ রায় (কানু) (রাইট আউট), শ্রীশচন্দ সরকার (হাবুল) (রাইট ইন), অভিলাষ ঘোষ (সেন্টার ফরোয়ার্ড), বিজয়দাস ভাদুড়ি (লেফট আউট), শিবদাস ভাদুড়ি (লেফ্ট ইন)।

তৎকালীন সিঙ্গাপুর ফ্রি প্রেস লিখেছিলো ” ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি , আই এফ এ শিল্ডের ফাইনাল দেখতে আজ বিকেলে মাঠে অভূতপূর্ব দর্শক সমাগম হয়েছিলো , ধারনা করা হচ্ছে দর্শকের সংখ্যা ছিলো লক্ষাধিক , উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক সেদিন খেলার কিছুই দেখতে পায়নি , খেলাটির বিষয়ে তাঁদের কেবল কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিলো , খেলার ফলাফল উড়ন্ত ঘুড়ির মাধ্যমে তাঁদের জানানো হয়ে ছিলো l প্রথম দিকে ইস্টইয়র্ক -ই জিতছিল , রাজেন সেনগুপ্ত প্রতিপক্ষের জ্যাকসনকে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ফ্রি -কিক পায় , মোহনবাগান গোলরক্ষক হীরালাল মুখার্জি সতীর্থ খেলোয়াড়দের প্রত্যেককেই দূরে সরে যেতে বললেন , সকলেই সরে গেলেন , কিন্তু একমাত্র ভূতি সুকুল দাঁড়িয়ে ছিলেন এই আশায় যে , শটটি তিনি হয়তো আটকে দিতে পারবেন , জ্যাকসনের ফ্রি -কিক সুকুলের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বলটি গোলে ঢুকে যায় , ব্রিটিশ সমর্থকরা আনন্দ -উল্লাসে ফেটে পড়েন —- দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান “”খেললো একেবারে দৈত্যের মতো “ ”, ইস্ট ইয়র্কের রক্ষন ভাগ একা কানু রায়ের আক্রমনকেই প্রতিহত করতে পারছিলো না , কানু রায় ও হাবুল সরকারের মধ্যে দারুন বোঝাবুঝি ছিলো , তাতে বিপক্ষের রক্ষন পজুর্দস্ত হয়ে পড়েছিলো , খেলা শেষ হবার দশ মিনিট আগে শিবদাস আচমকা ডান দিকে ছুঁটে গিয়ে লেফট ব্যাককে ডজ করে দুর্দান্ত একটা শট নিলেন , ইস্টইয়র্কের গোলকিপার ক্রেসি সম্পূর্ণ পরাস্ত হলেন (১-১ ) ” ”এই সাফল্যে বাঙ্গালী সমর্থকরা এমনই চিত্কার করেছিলেন তাঁদের গলা ভেঙ্গে গিয়েছিল “”– খেলা শেষ হবার মাত্র দু মিনিট আগে , শিবদাস একটি চমতকার পাস দিলেন অভিলাষ ঘোষকে , অভিলাষ দু -জন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক কে কাটিয়ে এগিয়ে গেলেন এবং হাঁটতে -হাঁটতে গোলে বল ঠেলে দিলেন (২-১) , রয়টার সেই সময় রিপোর্ট করেছিলো –“”যখন জানা গেলে যে , ইস্টইয়র্কশায়ার পরাজিত হয়েছে , তখনকার অবস্থা ছিল একেবারে বর্ণনাতীত , বাঙ্গালীরা উল্লাসে নিজেদের জামা ছিঁড়ে ফেলে পতাকার মতো শূন্যে নাড়ছিলেন l

শিল্ড নিয়ে ভূপেন্দ্র নাথ বসুর সাথে শিবদাস ভাদুড়ি। ছবি সূত্র- মোহনবাগান

তখন গোটা কলকাতা জুড়ে আতশবাজী ফুটছে। এটি শুধু ভারতীয়ই নয়, কোনো ইউরোপীয় দলকে হারিয়ে কোনো এশিয়ান দলের প্রথম কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট জয়। ম্যাচ শেষে ফিটনে চড়ে গোটা কলকাতা ঘুরলেন ওরা এগারোজন। ছেলেরা পারলে ঘোড়া হটিয়ে নিজেরা গাড়ি টানে। টিপু সুলতান মসজিদের সামনে মোড় ঘুরতেই মিছিলে সামিল মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের ভক্তরা। এই জয় যে পরাধীনতার বিরুদ্ধে গোটা বাঙালীর জয়। পরদিন ‘দ্য মুসলমান’ পত্রিকা লিখলো-“The members of the Moslem Sporting Club were almost mad rolling on the ground on the victory of their Hindu brethren.”

এই বিজয়ের খবর যে শুধু ভারতই জানলো তা নয়। খবর ছাপা হলো ইংল্যান্ডের পত্রপত্রিকায়ও। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের পাঠানো ক্যাবলগ্রামে লেখা হলো : “For the first time in the history of Indian football, an Indian team, the Mohun Bagan consisting purely of Bengalis, has won the Indian Football Association Shield crack teams of English Regiments.” “ At the final today there was a scene of extraordinary enthusiasm and it is estimated that 80,000 Bengalees were gathered on the Calcutta maidan. The vast majority saw nothing of the game….They were informed of its progress by flying kites.” “ When it was known that the East Yorkshire Regiment had been beaten the scene beggared description. The Bengalis tearing off their shirts and waving them.” বুঝতেই পারছেন লর্ডসে ইংরেজদের ভব্যতায় আঘাত দিয়ে জামা খুলে পতাকা বানানো বাঙালী সৌরভই প্রথম নন। এ দৃশ্য তারা আগেও দেখেছে কলকাতায় । ৪ আগস্ট ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান লিখলো : “ A team of Bengalees won the Football Association Shield in India after defeating the crack teams of three British Regiments amidst the applause of 80,000 of their countrymen. There is no reason of course of being surprised. Victory of Association Football goes to the side with the greatest physical fitness, the quickest eye, and the keenest wit.”

একমাত্র চৌরঙ্গীর সাহেব পাড়া বাদে সে রাতে ঘুমোয়নি কলকাতা। ট্রফি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে ফোর্ট উইলিয়ামের ওপর উড়তে থাকা ইউনিয়ন জ্যাকের দিকে আঙুল তুললেন একজন। বললেন- ওটা নামবে কবে? কে একজন উত্তর দিলো- মোহন বাগান আবার যেদিন আইএফএ শিল্ড জিতবে । ১৯৪৭ সালে তাদের দ্বিতীয় শিরোপাটি জিতেছিলো মোহন বাগান। ফাইনালের দুই টাকার টিকিট কালোবাজারে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়, মাঠে এক খিলি পান বিক্রি হয় এক আনায় । খেলা বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর দুইটার মধ্যে মাঠ প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঠের দুই ধারে খেলা দেখার জন্য আট আনা থেকে দুই টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় বাক্স, টুল, টেবিল, পাটাতন এমনকি ইটও পাওয়া যায় । খেলায় দর্শকসংখ্যা ছিল আশি হাজার থেকে এক লাখ। রয়টার্সের সংবাদ অনুযায়ী, ভিড়ের কারণে বেশির ভাগ দর্শকই খেলা দেখতে পারেনি। গাছের ওপর থেকে দর্শক আর স্বেচ্ছাসেবকেরা খেলার ফলাফল প্রচার করতে থাকে। দ্য এম্পায়ার পত্রিকা মাঠে একটি অস্থায়ী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বসিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে খেলার ফলাফল সারা কলকাতায় জানাতে থাকে । ১৯০৯ সালে কলকাতায় প্রকাশিত হয়েছিল এক মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। যার নাম ছিল মানসী। এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সাহিত্যিক যতীন্দ্রমোহন বাগচী। এই সাহিত্য পত্রিকায় ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয় মোহনবাগানের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে প্রথম ও একমাত্র কবিতা। যা পরবর্তীকালে গান হিসেবেও জনপ্রিয় হয়। তেমন কোনও তথ্যসূত্র না থাকলেও, এই গানের প্রথম কয়েক লাইন ইতিহাস ঘাঁটলে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়। কবির নাম করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার সাহিত্য পত্রিকাগুলোর মধ্যে মানসী ছিল প্রথম সারির মাসিক পত্রিকা । এখানে নিয়মিত লিখতেন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জ্যোতিরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়রাও। ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে ধরা হল মোহনবাগান নিয়ে লেখা প্রথম কবিতার সেই লাইনগুলো।

জেগেছে আজ দেশের ছেলে পথে লোকের ভিড়,
অন্তঃপুরে ফুটল হাসি বঙ্গরূপসীর।
গোল দিয়েছে গোরার গোলে বাঙালির আজ জিত,
আকাশ ছেয়ে উঠছে উধাও উন্মাদনার গীত।
আজকের এই বিজয়বাণী ভুলবে নাকো দেশ,
সাবাশ সাবাশ মোহনবাগান! খেলেছ ভাই বেশ!

মোহনবাগান যখন ঐতিহাসিক আই এফ এ শিল্ড জেতে, রবীন্দ্রনাথ তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। তার দু’বছর পরে অর্থাৎ ১৯১৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রবীন্দ্রনাথের কোনও লেখায় এই শিল্ড জয়ের উল্লেখ নেই । কিন্তু মোহনবাগানের প্রভাব থেকে কবিও মুক্ত ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথের আরেকটি রচনা ‘সে।’ এই বইটিতে তিনি নানা মজার ঘটনা লিখেছিলেন, নাতনি পুপেকে খুশি করার জন্য। এই বইতে দু’বার মোহনবাগানের সন্ধান পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ একবার লিখছেন, স্মৃতিরত্নমশায় মোহনবাগানের গোলকিপারি করেছেন। আরেকবার লিখেছেন, মোহনবাগানের খেলা দেখতে গিয়ে সাড়ে তিন আনা পয়সা পকেটমারি হয়ে গেছিল। এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘শেষের কবিতা’র একদম শুরুতে, যেখানে স্টাইল এবং ফ্যাশনের তুলনা করা হচ্ছে, সেখানে মোহনবাগানের উল্লেখ পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু মোহনবাগানের অনেক খবরাখবর রাখতেন। ১৭ এপ্রিল ২০১৬ সংবাদ প্রতিদিনে কাশীনাথ ভট্টাচার্য এমনই এক তথ্য দিয়েছেন। শান্তিনিকেতনে কবির সঙ্গে দেখা হয়েছিল গোষ্ঠ পালের। গোষ্ঠ পালের সুগঠিত শরীর দেখে তিনি বলেছিলেন, “বুঝতে পারছি কেন চীনের প্রাচীর বলা হয়।”

মোহনবাগান জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয়তাবাদী ক্লাব। দেশাত্মবোধ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। কারণ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় ১৫ অগাষ্ট, ১৮৮৯। ঘটনাচক্রে এই ঘটনার ৫৮ বছর পরে দেশ স্বাধীন হয় একই দিনে। উত্তর কলকাতার তিন অভিজাত পরিবার এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করে ফড়িয়াপুকুরের মোহনবাগান ভিলায়। যা ছিল মিত্র পরিবারের কিরটী মিত্রের বাড়ি। ক্লাবের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন বসু পরিবারের নামী আইনজীবী ভূপেন্দ্রনাথ বসু।

ব্রিটিশ সাহেবরা পরাধীন ভারতবর্ষে ফুটবল এনেছে একটা চিহ্নিত সময়ে। সাহেবদের আনা সেই খেলা দেখে, শিখে মাঠে ইংরেজদের পরাজিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসকে মজবুত করেছেন বাঙালি মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা। পরাধীন ভারতে মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধির জন্ম হয়েছে- ফুটবল মাঠে, যখন ইংরেজদের হারানো সম্ভব হয়েছে। তাহলে স্বাধীনতার সংগ্রামেও ঐক্যবদ্ধভাবে লড়লে তাদের পরাজিত করা অবশ্যই সম্ভব হবে! ফুটবলে গোরাদের বুটের বিরুদ্ধে বাঙালিরা খালি পায়ে খেলে (স্কটিশ কলেজের ছাত্র সুধীর চ্যাটার্জি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বুট পরে খেলেছিলেন মোহনবাগান দলে) এমন একটা সময় ফুটবল মাঠে বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন যখন ভারতবর্ষ জুড়ে স্বাধীনতার আন্দোলন ক্রমেই বেগবান হয়ে উঠছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে বাঙালি দলের বিজয় শুধু ফুটবলের ক্ষেত্রে স্মরণীয় নয়- জাতীয়তাবোধ অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে এক বিরাট পদক্ষেপ। এই বিজয়ের পর স্থানীয়রা মাঠের ফুটবলকে সব সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে মনে করেছেন। রাজনীতিবিদরা স্বাধীনতার মন্ত্রে মানুষকে অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু উজ্জীবিত করতে পারেননি- তারচেয়ে বেশি পেরেছে ফুটবল মাঠে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জন করে যুগে যুগে।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

সব পদেই বদলের চিত্র, নতুন মোহনবাগান সভাপতি

ডার্বি জয়ের পরের দিনেই সবুজ মেরুন কমিটিতে রদবদল। উল্লেখ্য বিষয়, মোহনবাগান সভাপতি পদে থাকাকালীন প্রয়াত হন গীতানাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তখন থেকেই ক্লাবের সভাপতি পদটি ফাঁকা ছিল। আর এদিন শুধুই সভাপতি নয়। তার পাশাপাশি ক্লাবের সবকটি পদে বদল এসেছে।
সূত্রের খবর, সোমবার মোহনবাগান পরিচালন সমিতির একটি বৈঠক আয়োজিত হয়েছিল। আর সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এতোদিন ক্লাবের সচিব পদে থাকা টুটু বসু হচ্ছেন নতুন মোহনবাগান সভাপতি। তার ছেলে সৃঞ্জয় বসু সহ-সচিব পদ থেকে এবার ক্লাবের সচিব পদে কাজ শুরু করবেন। অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ পদে আর থাকছেন না সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি হচ্ছেন নতুন সহ-সচিব। সবুজ মেরুনের নতুন কোষাধ্যক্ষের নাম উত্তম সাহা। যিনি এতোদিন মাঠ সচিব পদে থেকে কাজ করেছেন। হকি সচিব মহেশ টেকরিওয়াল হচ্ছেন মাঠ সচিব। সঞ্জীবন বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন হকি সচিব হিসেবে কাজ শুরু করবেন। পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে প্রাক্তন বাগান কর্তা অঞ্জন মিত্র-র মেয়ে সোহিনী মিত্র চৌবেকে ক্লাবের পরিচালন কমিটির স্থায়ী সদস্য করা হবে বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#Sports #Football #Mohun Bagan

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

লিভারপুল ও পিএসজি-র সাথে কথা এগোচ্ছে, “এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়”

আরো দুইটি বিদেশী ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। খবরের সত্যতা স্বীকার করে এক লাল হলুদ কর্তা জানিয়েছেন, “ইংল্যান্ডের লিভারপুল ও ফ্রান্সের পিএসজি এই দুটি ক্লাবের সাথে আমাদের টেকনিক্যাল সাপোর্টের বিষয়ে কিছু কথাবার্তা হয়েছে”। যদিও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। কারণ ভবিষ্যতে লাল হলুদ শিবির কি ধরনের ফুটবল খেলবে তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা চলবে। পাশাপাশি গত শনিবার স্কটিশ ক্লাব সেলেটিকের কমার্শিয়াল ডিরেক্টর ফেলবি কলকাতা ঘুরে নিজের দেশে ফিরেছেন। সূত্রের খবর কলকাতায় এসে ও লাল-হলুদ কর তাদের সাথে রচনা করেছেন ফেলবি। এরপর দেশে ফিরে ওই ক্লাবের একটি বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। যেখানে ইস্টবেঙ্গলের একটি প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#Sports #Football #East Bengal

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল, জেনে নিন দিনক্ষন ও ম্যান ইউ কর্তাদের মতামত

লাল হলুদের শতবর্ষ উদযাপনে ঐতিহাসিক ম্যাচের সাক্ষী হতে চলেছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। আগামী বছর সল্টলেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। সব ঠিক থাকলে ২০২০ সালের ২৬শে জুলাই বা আগস্টের ২তারিখ কলকাতা-য় এই ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে শহরে যুবভারতী ঘুরে দেখেছেন ম্যান ইউ কর্তারা। উপস্থিত ছিলেন এই বিদেশী ক্লাবের ফুটবল ডিরেক্টর অ্যালান ডসন। নতুন মরশুম শুরু করার দোরগোড়ায় ম্যান ইউ। আর তার অাগে ম্যান ইউ কর্তাদের এই এশিয়া সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ক্রীড়া মহল। বুধবার ঢাকা থেকে বিমানে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছান এশিয়া সফরে থাকা ম্যাম ইউ-এর প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার যুবভারতী পরিদর্শনে গেছিলেন তারা। সূত্রের খবর, সল্টলেক স্টেডিয়াম ঘুরে দেখে খুশি ম্যান ইউ কর্তারা। “নতুন মরশুমের প্রস্তুতি সারতে এশিয়া সফরে এসে যুবভারতী-তে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হতে তাদের কোন সমস্যা নেই” বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবল ডিরেক্টর অ্যালন ডসন। যদিও মাঠ নিয়ে কোন সমস্যার না থাকার কথা জানিয়ে দিলেও খেলা ছাড়াও আরও কয়েকটি দিক খতিয়ে দেখতে এখনও শহরে আছেন চার ম্যান ইউ কর্তা। সবকিছু দেখে শুনে একটি রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশে ফিরে ক্লাবের চিফ কোচ সোলসজায়ার-কে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। হেড কোচ সম্মতি দিলেই আগামীবছর কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#Sports #Football #East Bengal

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

বিদেশ সফরে প্রথম ম্যাচে পরাজয়, বিপাকে মোহনবাগান

Focal Point:

বাংলাদেশ সফরে গিয়ে প্রথম ম্যাচে পরাজয়। এগিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। গতকাল শেখ কামাল আন্তর্জাতিক কাপে ইয়ং এলিফ্যান্ট এফসি-র বিরুদ্ধে গ্রূপ লিগের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কিবু ভিকুনার ছেলেরা। কালিনাসের গোলে খেলা শুরুর ১৮মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধেই সোমজের গোলে খেলার ফলাফল ১-১ করে মাঠ ছাড়ে ইয়ং এলিফ্যান্ট এফসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বাগানের আক্রমনাত্বক ফুটবলের সামনে কিছুটা পথ হারিয়েছিল বিপক্ষ দলের ফুটবলার-রা। যদিও রক্ষণ ভাগের হার না মানা মনোভাবেই যেন এদিন জায়গা তৈরি হলেও আর গোল করতে সক্ষম হলেন না বাগান ফুটবলার-রা। শেষ মুহূর্তে যখন সবাই ধরেই নিয়েছে সবুজ মেরুন শিবিরের আক্রমন সামলে ড্র করে মাঠ ছাড়বে ইয়ং এলিফ্যান্ট এফসি। এক কথায় তখনই নাটকে যেন এক অজানা সংলাপ। পুনরায় জ্বলে ওঠেন সোমজ। ৮৯ মিনিটে তার পা থেকেই আসে জয়সূচক গোল। প্রথম ম্যাচে হেরে স্বাভাবিক ভাবেই বিপাকে মোহনবাগান। আগামীকাল টিসি স্পোর্টস ও ২৪ তারিখ চট্টগ্রাম আবাহনীর বিরুদ্ধে গ্রূপ লিগের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে সবুজ মেরুন শিবির।

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#Sports #Football #Mohun Bagan

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলার ময়দান, অঙ্কের হিসেব মিলিয়ে দেবে আজকের খেলা

Focal Point:

  • Today’s CFL Match Is East Bengal vs Kolkata Customs

একদিকে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে হার না মানার মানসিকতা নিয়ে সিএফএল-এর শেষ ম্যাচে বলে পা দিতে চাইছে জহর দাশের ছেলেরা। অন্যদিকে শতবর্ষে প্রথম লিগ জয়ের সম্ভাবনা ইস্টবেঙ্গল-এর সামনে। দুই দল এই মুহুর্তে সমান পরিস্থিতিতে। তবে সব কিছুর উর্দ্ধে গিয়ে গোল পার্থক্য বর্তমানে ময়দানে আলোচনার অন্যতম বিষয়। কারন এই পার্থক্যই ময়দানে গড়ে দিতে পারে নতুন ইতিহাস। ছয় দশকের অবসানে তিন প্রধানের বাইরে কোন ছোট দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। যার জন্য আরও একটি ম্যাচে জয় দরকার তাদের। আবার আজ যদি হাফ ডজন গোলের ব্যবধানে জয় পায় লাল হলুদ শিবির, তবে নিঃসন্দেহে গ্যালারি সেজে উঠবে লাল হলুদ মশালে। কারন পিয়ারলেস আরও একটি ম্যাচে জয়ী হলেও, গোল পার্থক্য শতবর্ষের প্রথম লিগ নিশ্চিত করবে ইস্টবেঙ্গল। আজ এইসব কিছুকে মাথায় রেখেই বারাসতে জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পিয়ারলেস। জহর বাবু কোচ জানাচ্ছেন,

“সময় খুবই কম পাওয়া গেছে, মাথা ঠান্ডা রেখে ছেলেদের নিজের কাজ করে যেতে বলা হয়েছে”।

যদিও আজ হারলে এমনি ছিটকে যাবে পিয়ারলেস। সেক্ষেত্রে লিগ জয়ের ক্ষেত্রে ছয় গোলের ব্যবধান না থাকলেও, পয়েন্ট শীর্ষে থাকায় ট্রাফির ঠিকানা হবে লাল হলুদ ক্লাব। তবে শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় আজ মাঠে থাকছেন না জর্জের অন্যতম ভরসা ইচে। তাদের কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,

“আমরা সবকিছু ভুলে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো, হারানোর আর কিছু নেই”। তবে শতবর্ষের পুন্যলগ্নে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ কতটা? স্প্যানিশ কোচ আলেহান্দ্র-র সোজা উত্তর, “আমরা ম্যাচটা জিততে চাই, তারপর ভাগ্যের ব্যাপার”।

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#Sports #Football #East Bengal

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত