student Of Visva Bharati university
featured post দক্ষিণবঙ্গ বঙ্গ সূচনা

দেওয়াল লিখন, পোস্টার ঘিরে উত্তাল বিশ্বভারতী, ‘চক্রান্ত করে পড়ুয়াদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করার চেষ্টা’?

এ যেন ফাল্গুনে বসন্তের আমেজে গা ভাসানোর সূচনা কালে বর্ষার কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ। হঠাৎ কেন এমন কথা? বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আগামী ১১ তারিখ। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি ক্যাম্পাসে লক্ষনীয়। আর তার মধ্যেই এক কথায় এক অচেনা আবহাওয়ার আগমন। আর সেই আবহাওয়াতে ভেসে আসা একটা প্রশ্ন ‘আমরা জঙ্গী নাকি’? সম্প্রতি কয়েকটা দিন ধরেই ইঙ্গিত মিলেছিল ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হবে আধা সেনা। আর সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানা যেতেই উত্তাল বিশ্বভারতী প্রাঙ্গন। সমাবর্তন এর আগে এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই এখন একাধিক প্রশ্ন উত্তরের সাক্ষী কবিগুরুর দেশ। শিক্ষাঙ্গনের পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব অগুনতি মানুষ। পোস্টারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বত্র প্রতিবাদের ঢেউ। বিশ্বভারতীর দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টারে লেখা, ‘নো সিআইএসএফ’। আর এমন পরিস্থিতিতে উঠে আসছে আরও একটি তথ্য। যেখান থেকে একটি আন্দোলনের সূচনা কালে বেশ কয়েকটি নতুন প্রশ্নের উত্থাপন। উল্লেখ্য আধা সেনা ক্যাম্পাসে মোতায়েন করার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ, যার একটি অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বেছে নিয়েছে দেওয়াল লিখন। এক পক্ষের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিটি কোনায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস, আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন ঐতিহ্যশালী বিভিন্ন বিল্ডিং এর দেওয়ালে লেখা ও পোস্টার দেওয়া কি উচিত কাজ? আবার অন্য পক্ষের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেই এই প্রতিবাদ, আর সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করা যেতেই পারে।

ক্যাম্পাসে দেওয়াল লিখন

এ বিষয় প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কয়েকজনের তীব্র প্রতিক্রিয়া, ‘চক্রান্ত করে একটি সংঘবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন কে ধ্বংস করার চেষ্টা ছাড়া এটা কিছুই নয়, ছাত্র দের মধ্যে একটা ভেদাভেদ তৈরি করে দেওয়ার ক্যাম্পাসে দেওয়াল লিখনচেষ্টা চলছে যাতে এই প্রতিবাদের ঢেউ সুদীর্ঘ না হয়’। আবার শুধু প্রতিবাদীরা নয় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে। যেমন কারো মতে, নিরাপত্তার জন্য নতুন যে বাহিনী কাজ করবে সেই বাহিনীর পিছনে খরচ হবে বড় অংকের একটা টাকা, আর এই মুহূর্তে কিছুটা হলেও আর্থিক সংকটে ভোগা বিশ্বভারতী কোন উপায় ওই খরচ সামলাবে? আবার অনেকের প্রশ্ন অবৈধভাবে কোন কোন ব্যক্তি প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের, কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে পাঠরত ছাত্র ছাত্রীরা তো জঙ্গী নয়। তাই তাদের সঙ্গে কিভাবে ব্যবহার করবেন জাওয়ানরা, সেই প্রশিক্ষণ কি বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে? এদিন এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্বরে এক হয়েছিলেন বহু ছাত্র-ছাত্রী। সেখান থেকে আধা সেনা মোতায়েন করার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে শুরু করে রতন পল্লী, অরশ্রি মার্কেট সহ বিভিন্ন এলাকায় চলে পোস্টারিং। যেখানে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, ‘আধা সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত বাতিল হোক’।

ছাপচিত্র- চিত্তপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য

পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘এই মুক্ত শিক্ষাঙ্গনের সৃষ্টিকর্তা গুরুদেব, সেখানে বন্দুক নিয়ে পাহারা দেওয়ার আদৌ কি কোন দরকার আছে’? আবার অনেক জায়গায় তীব্র প্রতিবাদের ভাষায় লেখা, ‘ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হচ্ছে নিরাপত্তা নাম করে, কিন্তু এভাবে একটা সঙ্ঘবদ্ধ ছাত্র আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না’। এক আন্দোলনকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, যদি সত্যিই ক্যাম্পাসে আধা সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তবে এখনও বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে গণতান্ত্রিক উপায় অবলম্বন করে যে প্রতিবাদ করার পরিবেশ রয়েছে তা আর কোনভাবেই বজায় থাকবে না। আর এই পরিবেশ নষ্ট করতেই এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে তৎপর হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বহু আশ্রমিক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বিশ্বভারতীর মতো এমন শিক্ষাঙ্গনে কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বরং এই সিদ্ধান্ত যাতে কার্যকর না হয় সে বিষয়ে এখন চিন্তা করতে হবে। তার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ও ছাত্র-ছাত্রীদের একসাথে বসে আলোচনা করা উচিত। যদিও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথায়, “এখনো এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এটা বলা ঠিক হবে না। তবে এটাতো ঠিক যদি নিরাপত্তার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসে সে ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা সক্ষম হবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমাদের অমূল্য সম্পদ নোবেল যা গুরুদেব লাভ করেছিলেন তা চুরি গেছে। সকলেই এ সম্পর্কে অবগত। অতএব নিরাপত্তা জোরদার করতে যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে ক্ষতি কি? সাথে এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কাজে যে অস্থায়ী কর্মীরা নিযুক্ত রয়েছেন তারা যেন কোনোভাবেই কর্মহীন না হয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে নিশ্চয়ই নজর দেবে”।

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#West Bengal #Visva Bharati University

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত