Ishwar Chandra Vidyasagar
Featured পাঠকের কলমে সূচনা

আসল নায়ক কখনও মঞ্চে থাকেন নি, ছিলেন দর্শকদের সাথে

সময়টা আনুমানিক উনিশ শতকের শেষ ভাগ, সমাজে চলছে শুধু তর্কবিতর্ক, ঠাট্টা, বিদ্রুপ। আর এই সবকিছুর কেন্দ্র শুধুমাত্র দুটি শব্দ ‘বিধবা বিবাহ’। তখনকার সমাজে বিধবা হওয়া মাত্রই তাদের জীবনে নেমে আসত অন্ধকার, ধর্মের ধারালো কুঠারের আঘাতে বিধবারা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যেতেন। কিন্তু যাদের মাথার ছিল ঈশ্বরের পবিত্র হাত তারা কি এত সহজে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে?
রাজা রামমোহন রায় জ্বলন্ত চিতার আগুন থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন বিধবাদের, সতীদাহ প্রথা রদ করে। কিন্তু চিতার সেই আগুন এত সহজে কি নিভে, প্রতিনিয়তই তারা দগ্ধ হচ্ছিল সমাজের নির্মমতায়। নারীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে এলেন বিদ্যাসাগর, শুরু হলো শাস্ত্রের লড়াই। একদিকে সমাজের জ্ঞানীগুণী প্রভাবশালী ব্যাক্তিগণ, অপরদিকে বিদ্যার সাগরে ভাসমান এক তরী ‘বিদ্যাসাগর’।
পরবর্তীকালে শিবনাথ শাস্ত্রীর লেখা থেকে জানা যায়, এইসময় বেশিরভাগটাই বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের পাঠাগারে কাটাতেন, ঘেঁটে বেড়াতেন নানা শাস্ত্রের বই। ১৮৫৩ সালে শীতকালের একটি পড়ন্ত বিকেল, হঠাৎই বিদ্যাসাগরের হাতে পড়লো পরাশর সংহিতার দুটি লাইন….
“নষ্টে মৃতে প্রবজিতে, ক্লীবে চ পতিতে পতৌ”।
স্বামী নিখোঁজ কিংবা মৃত্যু হলে, নপুংসক আর পতিত হলে তার স্ত্রী পুনরায় বিবাহে সক্ষম। এই যুক্তির নিরিখেই বিধবাদের পক্ষে তিনি দুটি বইও লিখলেন। অবশেষে বিদ্যাসাগর সফল হলেন বিধবাদের জন্য জনমত গড়ে তুলতে, পাশাপাশি সরকারের আকর্ষণও লাভ করলেন।পরের বছরই কিশোরীচাঁদ মিত্রের প্রস্তাব ও অক্ষয়কুমার দত্তের সমর্থনে বিধবাবিবাহ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্ৰতিলিপি ব্রিটিশ লিগ্যাল কাউনন্সিলে পাঠানো হয়। ৯৮৭ জনের সই সংগ্রহ করে একটি আবেদনপত্র জমা পরে ভারত সরকারের উপরমহলে।টনক নড়ে ওঠে সনাতন পন্থী হিন্দুদের, রক্ষণশীল সমাজের নেতা রাধকান্ত পাল্টা আবেদনপত্র দেন ভারত সরকারকে। তবে বিদ্যাসাগরের যুক্তির কাছে হারতে বাধ্য হন তিনি।
তৎকালীন পত্রিকাগুলি দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। প্রভাবশালী রাধাকান্ত দেব, কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সরাসরি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন, তবুও হার মানেননি বিদ্যাসাগর। খবরের কাগজে তার নামে ব্যঙ্গ পদ্য বেরোতে থাকে, আস্তে থাকে স্বনামি বেনামি হুমকির চিঠি। সাল ১৮৫৬, বর্ধমানের রাজা মহিতাব চাঁদ বিধবা বিবাহের সপক্ষে আবেদন দেন সরকারকে। বিদ্যাসাগরের সপক্ষে এগিয়ে আসেন প্যারিচাদ মিত্র, মদনমোহন তরকালঙ্কার, দীনবন্ধু মিত্রের মত উচুদরের ব্যক্তি ও জ্ঞানীরা।
অবশেষে ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই পাশ হয় বিধবা বিবাহ বিল। স্বয়ং গ্র্যান্ড সাহেব নিজের বাংলোয় ডেকে অভর্থনা জানান বিদ্যাসাগরকে। বঙ্গদেশে আসল এক নতুন যুগ, আর সেই যুগের নতুন দান হলেন সম্মান ও আত্মমর্যাদায় পরিপূর্ণ বিধবারা। লেখা হলো বহু নাটক,অভিনীত হলো মঞ্চেও, উদ্যোক্তা কেশবচন্দ্র সেন। তবে আসল নায়ক কিন্তু মঞ্চে ছিলেন না, তিনি কিন্তু উপভোগ করছিলেন সাধারণের পাশে বসে। দুইশো তম জন্মদিনে ঈশ্বরচন্দ্র ‘বিদ্যাসাগর’ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে কুর্নিশ জানাই…..

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *