Arati saha
Featured পাঠকের কলমে সূচনা

‘সাঁতার কাটার সময় মনে হচ্ছিল ওই কচ্ছপের পিঠে উঠে বসি’, জন্মদিনে ‘বাংলার জলপরী’

রূপকথার গল্পের পাতায় হোক কিংবা টিভির পর্দায় “পাইরেটস অফ দা ক্যারিবিয়ান”দেখে, জলপরী ব্যক্তিত্বের প্রতি আমাদের আগ্রহটা যেন একটু বেশিই।বাস্তবজীবনে এমনই এক জলপরী হলেন আরতি সাহা।না, রূপকথার জলপরীদের মত হয়তো সুবৃহৎ পাখনা কিংবা সোনালী চুল ছিলনা তার। সাধারণ মানুষের মত রক্তমাংসের দেহ, তবে কৃতিত্বগুলি অসাধারণ….
১৯৪০ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মেছিলেন ছোট্ট আরতি সাহা। মাত্র চার বছর বয়সেই কাকার হাত ধরে চাপা তলার ঘাটে হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই সাঁতারের প্রতি আগ্রহ ছিল প্রবল। জলের প্রতি এরূপ ভালোবাসার জন্যই ছোট বয়সে তিনি যোগ দেন হাটখোলা সুইমিং ক্লাবে। কিছু বছর পরেই সারাভারত জুড়ে তার সাঁতার প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে। শচীন নাগের সংস্পর্শে এসে তিনি রীতিমত দাপিয়ে বেড়াতেন আরতি। ডলি নাজিরের ছত্রছায়ায় এসে ১৯৫২ সালে হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে কনিষ্ঠতম প্রতিনিধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আরতি।
তবে অদ্যম ইচ্ছা থাকলেই যে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া যায়না। আরতি সাহা-র ইংলিশ সফরেও পিছুটান দেয় মাত্র কুড়ি হাজার টাকা।সকাল থেকে সন্ধ্যে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা অনুশীলন, চাকরি আর তারপর দোরে দোরে টাকার জন্য ঘোরা, এমন প্রতিকূলতাগুলোই ধীরে ধীরে জড়িয়ে ধরছিল আরতি সাহা কে। কিন্তু জলের প্রতি এতটা টান, এমনি এমনি কি থেমে যায়? তিনি শরণাপন্ন হন বিধানচন্দ্র রায়ের কাছে, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “ইংলিশ চ্যানেলে কোনোদিন চোখে দেখেছ যে পার করবে”? তবে শেষমেষ আর্থিক সাহায্যটুকু করেছিলেন তিনি, পাশাপাসি সাহায্য এসেছিল মিহির সেন, জওহরলাল নেহেরু, অতুল্ল্য ঘোষের কাছ থেকেও।
সব বাধাবিপত্তি কাটিয়ে ১৯৫৯ সালের ২৭শে আগস্ট প্রথম ইংলিশ চ্যানেল পারি দেন আরতি সাহা। কিন্তু ভাগ্য খারাপ! স্রোতের বিপরীতে মাত্র তিন মাইল বাকি থাকা সত্বেও বোটম্যান তাকে ছুঁয়ে দেয়। ফলস্বরূপ বাতিল বলে গণ্য হন তিনি। টানা ১৮ ঘন্টা ১০ মিনিট সাঁতার কাটার পর নবীন সাঁতারু বলেছিলেন, “সাঁতার কাটতে কাটতে চোখে পড়লো পাস দিয়ে একটা কচ্ছপ ভেসে যাচ্ছে, মনে হলো ওর পিঠে ভেসে চলে যাই। ঠান্ডায় হাত পা কেটে যাচ্ছিল, দশটা উনুন পেটের কাছে জ্বললে বোধকরি ভালো হতো তখন”।
প্রথমবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও ২৮শে সেপ্টেম্বর আবার তিনি শুরু করেন তার অভিযান। ফ্রান্সের কেপ গ্রিস নে থেকে ইংল্যান্ডের স্যান্ডগেট। এবারের বোটম্যান হিসেবে ছিলেন ক্যাপ্টেন হারটিনসন।টানা ১৬ঘণ্টা ২০মিনিট সাঁতার কাটার পর ফক্সটন বন্দরে পৌঁছে যান আরতি সাহা, বাকি দশ গজ হাঁটা পথ। অবশেষে তিনি সফলতার শীর্ষে। পাশাপাশি স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের প্রথম এশীয় মহিলা সাঁতারু হিসেবে তার নাম লেখা হয়ে যায়। একটা টাকার কাছে হেরে যেতে বসেছিল আরতি সাহার স্বপ্নের ইংলিশ চ্যানেল অভিযান, প্রথম বার হাতে না পেলেও দ্বিতীয় বারে লক্ষ্যভেদ করতে পিছু হটেন না তিনি। জীবনপথে “কখনো হাল ছেরো না বন্ধু”…এই কথাটি শুনলেই যেন কোথাও না কোথাও আরতি সাহার মুখটি ভেসে ওঠে…জন্মদিনে অসীম শ্রদ্ধা জানাই ‘বাংলার জলপরী’ কে।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *