Featured পাঠকের কলমে সূচনা

নকশালবাড়ির রাজনীতি, সাহিত্য ও ভারাভারা রাও

ফাল্গুনী পান:- দীর্ঘ ১৫ বছর পর ‘সেকেন্দ্রাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’র রায় বের হল ১৯৮৯ সালে। ভারাভারা রাও সহ সমস্ত অভিযুক্ত বেকসুর খালাস পেলেন। যদিও গ্রেফতার করার পর বেশ কয়েকবার তাদের জামিন নাকচ হয়, একুশ মাস জেলে থাকতে হয় কবি ভারাভারা রাও সহ সমস্ত অভিযুক্তকে। মুক্ত হয়েছিলেন ৩০শে মার্চ ১৯৭৭। ১৯৭৩ সালে আদালত আদেশ দেয়, লেখকদের তাদের লেখার জন্য গ্রেফতার না করে কাজকর্মের উপর ভিত্তি করে গ্রেফতার করতে হবে। সেই আদেশের বলে বলীয়ান হয়ে সরকার ‘সেকেন্দ্রাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’র ছক কষে। কবি সহ ৪৬ জন বিপ্লবী কর্মীকে সেই মামলার অধীনে গ্রেফতার করা হয়। সমস্ত বিল্পবী কাজকর্ম এই বিপ্লবী লেখকদের কবিতা এবং বক্তৃতার কারণেই সংগঠিত হচ্ছে, এই ছিল ‘সেকেন্দ্রাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’র মূল ভিত্তি। শুধু মিথ্যে মামলায় নয়, কবির জন্য বরাদ্দ ছিল সরকারের ভাড়া করা পেশাদার খুনি এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নাম, পেণ্ডয়ালা ভারাভারা রাও। অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়রঙ্গল জেলার চিন্না পেণ্ডয়ালা গ্রামে জন্ম, ১৯৪০ সালের ৩’রা নভেম্বর। বাবা কোদণ্ডরাম রাও, মা রুক্মিণী। তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতে শুরু করে ১৯৫৮ সাল থেকে। ১৯৬০ সালে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তেলেগু তে এম.এ পাশ করে সেখানেই শুরু গবেষণা। তবে মাত্র কয়েকটা দিনের অবসানে গবেষণা ছেড়ে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে চাকরি নেন। কিছুদিন কাজ করেন প্রকাশন সহযোগী হিসেবে তারপর আবার একটি বেসরকারি কলেজে কিছুদিন অধ্যাপনার কাজে নিজেকে যুক্ত করেন। রাজনৈতিক ভাবে ভারাভারা রাও নেহেরুর সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার প্রতি ছিলেন চূড়ান্ত ভাবে আকৃষ্ট। ১৯৬৬ সাল অবধি কবির কবিতার বিষয়বস্ত ছিল নেহেরুর সমাজতান্ত্রিক আদর্শ, অমূর্ত মানবতা এবং জনগণ। ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে তিনি ত্রৈমাসিক ‘সৃজনা’ পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন এবং এটির পরিচালনার জন্য ওরঙ্গলে তৈরি করেন ‘সাহিত্য মৈত্রালু’ (সাহিত্যের বন্ধু) নামে সাহিত্যপ্রেমীদের একটি গোষ্ঠী। আধুনিক তেলেগু সাহিত্যের প্রতি তাঁরা ছিলেন বিশেষ ভাবে দায়বদ্ধ।
১৯৬৬ সালে চীনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব আর একই সঙ্গে ভারতে ১৯৬৭ সালে নকশালবাড়ির কৃষকবিদ্রোহ রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ডাক দিল। দিক পরিবর্তন হল ভারতের রাজনীতি, সাহিত্য, শিল্প সমস্ত ক্ষেত্রে। নকশালবাড়ি কৃষক অভ্যুত্থান উচ্চ ও মধ্যবিত্তের সাধের সাহিত্য চর্চাকে জনগণের সাহিত্যে পরিণত করল। নকশালবাড়ি এবং পরবর্তীতে অন্ধ্রপ্রদেশে শ্রীকাকুলামের কৃষক বিদ্রোহে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ডাক অন্ধ্রপ্রদেশের সমস্ত সাংস্কৃতিক কর্মী এবং তরুণ কবি ও ছাত্রছাত্রীদের দারুণ ভাবে প্রভাবিত করে। শ্রীকাকুলামের সশস্ত্র কৃষকবিদ্রোদের পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তেলেগু মহাকবি শ্রী শ্রী (শ্রীরঙ্গম শ্রীনিবাস রাও) এর ষাঠ’তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশাখাপত্তমে বহু লেখক কবি একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানে নকশালবাড়ি-শ্রীকাকুলামের সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ বিশাখার ছাত্রছাত্রীরা লেখকদের বিপ্লবের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে একটি লিফলেট বিলি করেন। তারা লেখক, কবিদের বিপ্লবের পক্ষে আসার জন্য আহ্বান জানান। তাদের এই ডাকে সারা দিয়ে বহু তরুন, বৃদ্ধ লেখক কবিরা শ্রীকাকুলামের সশস্ত্র সংগ্রামী কৃষকদের পক্ষে এগিয়ে এলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তরুন কবি ভারাভারা রাও। তিনি ভীষন ভাবে আন্দোলিত হলেন ছাত্রছাত্রীদের এই ডাকে। তাঁর কবি এবং রাজনৈতিক জীবনের পট পরিবর্তিত হল এই ডাকে।
১৯৭০ সালের ৪’ঠা জুলাই প্রতিষ্ঠিত হল ‘বিরসম’ (বিপ্লবী রচতিয়াল সংঘম)। সভাপতি নির্বাচিত হলেন প্রতিষ্ঠাতা কবি শ্রী শ্রী। সামাজিক সাম্যের উপর ভিত্তি করে সুবিধাবাদী সমস্ত আকাশকুসুম ধারণা কে ত্যাগ করে বিপ্লবের সমস্ত শক্তিকেই শক্তিশালী করার দায়বদ্ধতা অনুভূত হল বিরসমের সমস্ত সাহিত্য ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে। কবিতা হল শ্রেণী চ্যুত। বিরসমে’র কর্মীরা গ্রেফতার হলেন ও কিছুক্ষেত্রে খুনের অভিযোগ আনা হয়। কবিতা ছড়িয়ে পড়ল স্লোগান হয়ে মাঠ ময়দান কারখানা থেকে দণ্ডকারণ্যের গ্রামে পথে জঙ্গলে।
“কবির ভূমিকা জনগণকে সশস্ত্র করা”।
ভারাভারা রাও ‘বিরসম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যকরী সমিতির সদস্য। বিরসমের প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৮ সালে তিনি ফিরে আসেন ও ওয়রঙ্গল, সি কে এম কলেজে অধ্যাপনার কাজে মনোনিবেশ করলেন। একদিকে চীনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব অন্যদিকে নকশালবাড়ির আন্দোলন সম্পর্কে অবগত হয়েছেন ভারতবাসী। ১৯৬৯ সালে ওয়রঙ্গলে তৈরী করলেন ‘থিরুগাবডু কভুলু’(বিপ্লবী কবি)। শ্রীকাকুলামে তখন সশস্ত্র কৃষক আন্দোলনের ঢেউ। ‘থিরুগাবডু কভুলু’ যুক্ত হল চলমান কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে। যুবক লেখকেরা বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিল। পরিবর্তিত হচ্ছিল তেলেগু সাহিত্যের রুপরেখা। পরম্পরাগত অমূর্ত মানবতাবাদ, অলীক কল্পনা আর তথাকথিত প্রগতিশীল সাহিত্যের ভিত গণসাহিত্যের প্রবাহে কেঁপে উঠেছিল। চেরবাণ্ডা রাজুর মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালে মাকিওয়ালেসায় বিরসমের সম্মেলনে ভারাভারা রাও বিরসমের সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। এরপরই তাঁর সম্পাদিত ‘সৃজনা’ পত্রিকার প্রায় সাতটি সংখ্যা নিষিদ্ধ করা হয়। তিনি জেলে গেলে তাঁর পত্নী হেমলতার সম্পাদনায় ‘সৃজনা’ প্রকাশিত হতে থাকলে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে কি ভারাভারা রাও-এর রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক কাজকর্মকে ভয় পেয়েছিল রাষ্ট্র? এই প্রশ্ন একাধিকবার করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ১৯৭৩ এ মিসা, ১৯৭৪ এ সেকেন্দ্রাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৭৫ এ জরুরি অবস্থায় আবার মিসায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জরুরি অবস্থার পরবর্তীতে সারা অন্ধ্রপ্রদেশ, বিশেষ করে উত্তর তেলেঙ্গানার জেলাগুলিতে গণ আন্দোলন তীব্রতর হয়। কবি ভারাভারা রাও প্রথম থেকে সেই আন্দোলনগুলোয় যুক্ত ছিলেন। তখনও সংগ্রামী জনগণের সহানুভূতি আর সহমর্মিতা, সাথে জমিদার শ্রেণী ও পুলিশের বিরুদ্ধে সেই সময়কালে বহু অভিযোগ করা হয়। ১৯৮৫ সালে এন টি রামারাও সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসীন হলে আন্দোলন দমনের জন্য ভুয়ো সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে আজও অভিযোগ তোলা হয়। ভারাভারা রাও-এর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করা হল। সারা রাজ্যজুড়ে জনগণের উপর সন্ত্রাস হচ্ছে, এই খবর প্রচারের জন্য সারা ভারত বিপ্লবী সাংস্কৃতিক লীগের তরফ থেকে ভারাভারা রাও জুলাই মাসে ভারত সফর বের হলেন। সঙ্গে গণশিল্পী গদর ও র‍্যাডিক্যাল যুব লিগের সাধারাণ সম্পাদক বি এস রামলু। এই সময়কালে খুন হন সিভিল লিবার্টিজ কমিটির উপাধ্যক্ষ ও শিশু চিকিৎসক ডঃ রামনাথম। ‘সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর স্বাধীনতা খর্বের বিরুদ্ধে আত্মগোপন নয়, ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেওয়াই তাঁর কাজ’ এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তিনি ১৯৮৫ সালের ২৬’শে ডিসেম্বর সেকেন্দ্রাবাদ ষড়যন্ত্র মামলার জামিন খারিজ করে স্বেচ্ছায় জেলে যান। আদালতে বিবৃতি দিয়ে কবি ভারাভারা রাও বলেন, ‘আমি যদি বেঁচেই না থাকি তাহলে আমি কবিতা লিখতে পারব না। বেঁচে থাকার জন্য এ শৃঙ্খল আমায় স্বীকার করতে হবে’।
ভারাভারা রাও তেলেগু ভাষার একজন প্রতিষ্ঠিত কবি, সাংবাদিক, সাহিত্য সমালোচক ও ভালো বক্তা। তেলেগু সাহিত্যের তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সমালোচক হিসেবে গণ্য। তাঁর লেখা বহু পঠিত, হাজার হাজার মানুষ বারংবার জড়ো হয়েছেন কবির বক্তৃতা শুনতে। সত্তরের দশকে সেই যে তিনি ছাত্রছাত্রীদের লিফলেট দ্বারা আন্দোলিত হয়ে নকশালবাড়ির রাজনীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে জনজীবনের আকাঙ্খার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন তখন থেকে আজ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রে অন্যতম শত্রু হিসেবে পরিগণিত। তাই ৮১ বছরের বয়স্ক কবির লেখনিকে রাষ্ট্র কিভাবে নেয়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের মতামত ভিন্ন। এই মুহুর্তে কবি বদ্ধ জেলের অন্ধকার কুঠিতে। একাধিকবার তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে। সাথে করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি দিল্লির সেন্ট জর্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের লোকজনও তাঁর সঙ্গে ঠিক করে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভারাভারা রাও তাঁর আদর্শ কে ভিত্তি করে স্রোতের বীপরীতে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ় ভাবে। তাঁর বৈপ্লবিক চেতনা, দৃঢ়তা সুবিধাবাদের টানে পথভ্রষ্ট হয়নি একথা বলা যায়। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তাঁর নয়টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, এছাড়া বহু কবিতার সংকলন তিনি সম্পাদনা করেছেন। কবির সম্পাদিত ‘সৃজনা’ পত্রিকার সাহিত্য উর্বরতা ও সৌকর্য তেলেগু সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। কবি ভারাভারা রাও-এর কবিতা সংকলনগুলি হল- ১. চলিনেগাল্লু(শিবিরাগ্নি) ২. জীবনাড়ি(নাড়ি) ৩. উরে গিম্পু(মিছিল) ৪. স্বেচ্চা(স্বাধীনতা) ৫. সমুদ্রম(সমুদ্র) ৬. ভবিষ্যৎ চিত্রপটম(ভবিষ্যতের ছবি) ৭. মুক্তকণ্ঠম(মুক্ত কণ্ঠ) ৮. আরোজলু(ছুটির দিন) ৯. উন্নাদেদো উন্নাটলু(যেমন আছে তেমন)। কবির সাহিত্য সমালোচনা গ্রন্থ দুটি। পি এইচ ডি-র জন্য লেখা গবেষণাপত্র ‘তেলেঙ্গানা মুক্তি সংঘর্ষ ও তেলেগু উপন্যাস’ একটি সাহিত্য সমালোচনার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। লোক সঙ্গীতের গণসঙ্গীতে রূপান্তর বিষয়ে তিনি ডক্টরেট করেন। তাঁর জেলের চিঠি ১৯৯০ সালে ‘সহচরলু’ নামে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়। ‘সৃজনা’ পত্রিকায় তাঁর লেখা সমস্ত সম্পাদকীয় ১৯৯০ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবির নানা সময়ে লেখা বিভিন্ন প্রবন্ধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। জেলে বন্দী থাকাকালীন ভারাভারা রাও গুগি ওয়া থিয়েঙ্গোর ‘জনৈক লেখকের জেল ডায়েরি’ ও ‘ডেভিল অন দ্য ক্রস’-এর তেলেগু অনুবাদ করেন। ভারাভারা রাও-এর প্রত্যেকটি সাহিত্য সৃষ্টি যেন জনগণের প্রতি, সমাজ বদলের রাজনীতির প্রতি দায়বদ্ধ। নকশালবাড়ি রাজনীতির প্রতি গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বহুবার দমন-পীড়ন নামিয়ে আনার অভিযোগ করা হলেও ভারাভারা রাও-এর কলম কোনদিন থেমে যায়নি।
“ধমকের পর ধমক দিতে দিতে
আতঙ্কের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে
সে নিজেই ভয় পেয়ে গেল
সে ঘরে ভয় পেল
সে জলে ভয় পেল
সে শূন্যে ভয় পেল
স্বাধীনতাকে সে শৃঙ্খল পরিয়েছিল
কিন্তু হাতের বেড়ির আওয়াজ হতেই
সে ভয় পেয়ে গেল”।

তথ্য সূত্র:- নকশালবাড়ি ও সাহিত্য (কাঞ্চন কুমার)

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *