Featured পাঠকের কলমে সূচনা

‘কোভিড-১৯ ও পরিবেশ’, আইন ভাঙার খেলা

ড:- কৌশিক মুখোপাধ্যায়:- নোবেল করোনা ভাইরাসের মহামারী দেশ ও দুনিয়ার নানান ক্ষেত্রকে ইতিমধ্যে সঙ্কটগ্রস্থ করে তুলেছে।টালমাটাল রাজনীতি হতে সমাজনীতি বিপন্ন অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বজুড়ে আজ ত্রাহি ত্রাহি রব। সংকটাপন্ন পুঁজিবাদ এই বিপদ হতে মুক্তি লাভের উদগ্র বাসনায় নানা প্রকৌশলে নানা ভাবে নানা দেশের নানা বেশ অবতীর্ণ হচ্ছে। লাগাম ছাড়া মুনাফা অর্জনের যে ধারাবাহিকতায় তাঁরা অভ্যস্থ কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় সেই ধারায় সাময়িক প্রতিরুদ্ধ হলেও দেশে দেশে তাদের নিজস্ব এজেন্ট অর্থাৎ শাসক শ্রেণী সে ক্ষত কে পুষিয়ে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। উগ্র দক্ষিণপন্থার মোড়কে পরিচালিত রাষ্ট্রশক্তি আজ এমন পরিস্থিতির সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বরং পুঁজিবাদের স্বার্থ রক্ষার্থে আরও উগ্র ভয়ানক তীব্রতায় অগ্রসরমান। তারা এই বিপদের অভিমুখকে সরাসরি প্রসারিত করতে চলেছে সমাজের সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের কাঁধেই। চরম নির্লজ্জতা রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ হতে জল জমি জঙ্গল পাহাড় খনি সহ দেশের সব প্রাকৃতিক সম্পদকে অকাতরে বিলিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত চলছে কর্পোরেট শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার্থে।

পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে নোবেল করোনা ভাইরাসের সম্পর্ক কেন্দ্রিক নানা বিষয় বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা দেশের বিজ্ঞানী মহলের গবেষণায় উঠে আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের পরিবেশ আইনকে নতুন আঙ্গিকে আরও বেশি করে মানুষের স্বার্থবাদী করে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে চিকিৎসা বর্জ্য, বায়ুদূষণ, জলদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ভূমিকা হতে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, বন্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিগুলি করোনা ভাইরাসের পূর্বে এবং বর্তমানে মহামারি কালীন সময়ে নিরীক্ষিত পুনর্মূল্যায়নের চেষ্টা শুরু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সাথে বায়ু দূষণের সরাসরি সম্পর্ক আজ প্রায় প্রতিষ্ঠিত।যে সমস্ত অঞ্চলে বায়ু দূষণের মাত্রা যত বেশি সেখান এই রোগের কারণে মৃত্যু হারও তত বেশি। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশিত তথ্য হতে স্পষ্ট বাতাসে সূক্ষ দূষণের মাত্রা মাত্র ১ একক বাড়লেই করোনা ভাইরাসের মৃত্যুহার বেড়ে যায় প্রায় ১৫%। আবার আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রামাণ্য তথ্য হতে এটাও পরিষ্কার যে, অধুনা মানবদেহে সংক্রামিত রোগের তিন চতুর্থাংশ বন্য প্রাণী বা গৃহপালিত পশু হতে প্রবাহিত। ইবোলা সার্স মার্স হতে আজকের করোনা যে মূলত অবাধ বৃক্ষ ছেদন শিল্প সমৃদ্ধ কৃষি ব্যবস্থা বেআইনি বন্যপ্রাণীর ব্যবসা এবং জলবায়ুর পরিবর্তন সহ নানা ধরনের পরিবেশ গত অবক্ষয়ের অনিবার্য ফলাফল তাও আজ অনস্বীকার্য।

এই বাস্তবতার নিরিখেই আজ ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে কার্বন নিঃস্বরণ মাত্রা কমাবার নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করার চিন্তা ভাবনা আলোচিত হচ্ছে।আবার তার পাশাপাশি বর্তমান মহামারী জনিত সময়ে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষার স্বার্থের কথা বলে তাদের আর্থ সামাজিক দুর্বলতাকে ব্যবহার করে পরিবেশের সুরক্ষা জনিত নানা মাত্রা আইন এবং পরিবেশগত নজরদারি কে দুর্বল করার কর্পোরেট চক্রান্ত সমানতালে গতিশীল।ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে নানা আপত্তি ও সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বহুল প্রচারিত এবং আলোচিত। পুঁজির স্বার্থে চরম নির্লজ্জতার পরিবেশ বিষয়ক একাধিক বিষয়ে তাঁর সরাসরি বিরোধিতার নানা নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম ২০২৭ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে বার করে আনার ঘটনা।এমনকি ২০২০ সালে বাজেট প্রস্তাবেও পরিবেশ সংক্রান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে প্রায় ৩১ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের মহামারি কালীন সময় যে দেশের গ্রিন ডেভলপমেন্টের জন্য বরাদ্দ করা হয় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ত্রাণ সরিয়ে ফেলা হয়েছে কর্পোরেট বাণিজ্যকে অক্সিজেন জোগাতে। করোনা মহামারীর ভয়াবহ প্রকোপে আমেরিকার শিল্প অধ্যুষিত নানা শহর বিশেষত নিউইয়র্ক নিউজার্সি ডালাস ডেট্রয়েট যখন ভয়ানক রূপে আক্রান্ত এবং মৃত্যু হারের সাথে বায়ুদূষণের সরাসরি সম্পর্ক আজ অনেকাংশেই সুপ্রতিষ্ঠিত। আর ঠিক এ সময় মার্চের শেষে ঘোষিত হয়েছে আমেরিকায় নতুন গাড়ির জন্য সয়েল এফিশিয়েন্সি স্ট্যান্ডার্ড কমিয়ে দেওয়ার নতুন আইন।আশা করা হচ্ছে যার ফলে গ্যাসোলিনের ব্যবহার বাড়তে চলেছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন টন যা স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি ডেভিড বরিড এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দুর্বলতম মানুষের মানবাধিকারের প্রশ্নে চরম বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছেন। করোনা মোকাবিলার প্রেক্ষিতে অর্থনীতির প্রশ্নকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষার আইনগুলোকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি নির্দিষ্ট ভাবে গুরুত্ব আরোপের কথা বলেছেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জ সহ পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা নানা সংস্থা হতে গবেষক কোন বর্তমান মহামারীজনিত বিপর্যয় এবং আগামী দিনে এমন বহু বিপদ হতে পৃথিবীকে রক্ষার ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রশ্নে ক্রমান্বয়ে আরও যত্নশীল হওয়ার বার্তা দিয়ে চলেছেন। আর তার মধ্যেই আরও এক চরম দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রপ্রধান ব্রাজিলের বোলসেনার মন্ত্রিসভার স্বয়ং পরিবেশমন্ত্রী রিকোর্ড সেলেসের এক ভিডিও বার্তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। ২২শে মে,২০২০ সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট হতে প্রকাশিত হয়েছে মন্ত্রী গোষ্ঠীর মিটিংয়ে তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য ‘মানুষ যখন নোবেল করোনা ভাইরাসের মহামারি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত এই সময় পরিবেশ আইনগুলি শিথিল করার উপযুক্ত সময় ও সুযোগ। কারণ এখন এ ধরনের কাজ করলে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যম বিশেষ আলোচনা হওয়ার সুযোগ থাকবে না যেহেতু তারা করে না শুনেই ব্যস্ত। তিনি আরও বলেছেন, ‘এ সময় এমন পরিবর্তন করতে চাইলে জাতীয় কংগ্রেসে তা পাশ করানো হয়তো কঠিন হত যদি এমন বহু দরকারি সংস্কারের ক্ষেত্রে সংসদের সমর্থন পাওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করি না’। ইতিপূর্বে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান বোলসেনারোর ক্ষমতাসীন হওয়ার সময় আমাজন সম্পর্কিত ঘোষণাওনিশ্চয়ই আমাদের স্মরণে রয়েছে।পৃথিবীর বৃহত্তম বৃষ্টি বন আমাজনের ধ্বংস সাধন করে সেখানে খনিজ পদার্থ উত্তোলন হতে জঙ্গল সাফ করে শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তাঁর নির্লজ্জ প্রকাশ্য মন্তব্য ঝড় তুলেছিল গোটা বিশ্বে। পরবর্তী সময়ে গত বছর আমাজনের বিধ্বংসী দাবানলের পিছনে বালসেনারও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বহু প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেছে। আর আজ আরও একবার এক ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে আসছে। দেখা যাচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ব্রাজিলে যত বৃদ্ধি পেয়েছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৃক্ষ নিধনের ঘটনাও।ব্রাজিলের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও গবেষণা মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল ইন্সিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ নামক গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত তথ্য হতে পরিষ্কার যে ২০২০, সালের প্রথম চার মাসে সে দেশের বৃক্ষ নিধন বেড়েছে প্রায় ৫৫%। আর পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে সেলেস তদন্তকারী সংস্থার সরাসরি বনভূমি ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ কত আইনকে অগ্রাহ্য করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সরকারি অভিযোগ জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যান ওয়ার্মিং অ্যান্ড রিনিউবেল রিসোর্সের এক অফিসার। স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রীকে অপসারণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সে দেশের প্রাক্তন পরিবেশ মন্ত্রী মারিনা সিলভা হতে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী গ্রিন পিস ব্রাজিলের মুখপাত্র লুইজা লিমা সহ বহু সাধারণ মানুষ।

করোনা মহামারি জনিত সুযোগে পরিবেশ আইনকে লঘু করার চক্রান্ত স্ত্রী শুধুমাত্র সুদূর মার্কিন দেশ বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরম বন্ধু বোলসেনানের ব্রাজিলের সংগঠিত হচ্ছে তা নয়।ট্রাম্পের আরও এক মহা মৃত্যু নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীর শাসনকাল এমন অপকর্মটি একই কায়দায় সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে সেরে ফেলার বন্দোবস্ত শুরু হয়েছে। ভারতবর্ষে লোভ ডাউন পর্ব শুরুর দিনই অর্থাত ২৩শে মার্চ,২০২০ পরিবেশগত অভিঘাত মূল্যায়ন সম্পর্কিত এক খসড়া বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রীয় পরিবেশ( Environmental Impact Assesament বা EIA) বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক দ্বারা প্রকাশিত হয়। এ বিজ্ঞপ্তি কার্যকর হলে কার্যত বিনা বাধায় বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক দ্বারা প্রকাশিত হয়।এই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর হলে কার্যত বিনা বাধায় নদী পাহাড় জমি জঙ্গল সহ দেশের প্রায় সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ কর্পোরেট শ্রেণীর হাতে চলে যাবে। ‘পরিবেশ আইন ভাঙা হয়নি’ এমন স্বঘোষিত উল্লেখের মধ্য দিয়েই প্রকল্প রূপদানকারী কোম্পানিকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা এ খসড়ায় বলা হয়েছে। আর আইন ভাঙার কথা নিজেরা জানালেও শাস্তিরূপে সরকারি আমলা নির্ধারিত আর্থিক জরিমানা দিলেই ‘সাত খুন মাফ’। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সাধারণ মানুষের প্রকল্পের বিষয়ে গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করা বা EIA Report দেখার যে গণ অধিকার ছিল তাও কে নেওয়ার চক্রান্ত রচিত হয়েছে। এই রিপোর্ট দেখার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যে বাধ্যতামূলক অধিকার ছিল তা কেবলমাত্র তথ্যের অধিকার আইনে আপিলের মাধ্যমে পাওয়ার কথাই বলা হয়েছে। আর কৌশলগত কারণ বা ‘Other Strategic Consideration’ এর নামে কার্যত যে কোনও প্রকল্পকেই যাবতীয় পরিবেশ জনিত বিধি নিষেধের বাইরে রাখার ক্ষমতা একচেটিয়া ভাবে কেবলমাত্র সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইন জলদূষণ প্রতিরোধ আইন বায়ু দূষণ বিরোধী আইন বা জীব বৈচিত্র রক্ষা আইন সহ এধরনের সব আইনি সংসদের উভয় কক্ষে পাস করেই আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিপজ্জনক ঘণ্টা সংসদ এবং সাধারণ মানুষকে এই লাগু করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট। মহামারীর এই সময়কালের মধ্যে ৩০শে জুন, ২০২০তারিখের মধ্যেই এ সংক্রান্ত যাবতীয় আপিল ও আপত্তি জানানোর দিন ধার্য হয়।শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই তারিখ ১১ই আগস্ট, ২০২০ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভবপর হয়েছে।কিন্তু সময় চয়ন এবং খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত নির্দেশগুলো লক্ষ্য করলেই বর্তমান সরকারের অভিপ্রায় গুলো অতি সহজে নিশ্চিত ভাবেই ধরা পড়ে যেতে বাধ্য।

আজকের সময় দাঁড়িয়ে গোটা পৃথিবীর উগ্র দক্ষিণপন্থী শাসকদের কাছে এটাই দস্তুর। গণতন্ত্রের নাম করে আর তাকেই ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক আদর্শকে নস্যাত্ করে ক্ষমতার মসনদ কে শক্তিশালী করার এক ভয়ানক খেলায় মত্ত এই শাসক গণ। মানুষের প্রতিনিধিত্ব কে অস্বীকার করে মানবাধিকার হরণ করার মধ্যে দিয়ে মহামারীর এই বিপদ সংকুল সময় কে আপন শ্রেণিস্বার্থ কর্পোরেটের আখের গোছানোর কাজে ব্যবহার করতে চাইছে তারা।দেশে দেশে এমন শাসকেরা তাই এ সময়কালে দাঁড়িয়েও পরিবেশ আইনের বিধিগুলো কে দুর্বল করার হীন চক্রান্তে সামিল হতে পারে! অথচ বাস্তবতা আজ আমাদের অগ্রসর হওয়ার কথা সম্পূর্ণ উল্টো স্রোতে বিপরীত পথে।করোনার মৃত্যু আর বায়ুদূষণের সমানুপাতিক সম্পর্কের কথা মাথায় রাখলে ভারতবর্ষের মতো দেশের ক্ষেত্রে আজ বরং স্বচ্ছ মুক্ত দূষণহীন পরিবেশের দাবি উত্থাপিত হওয়া আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক। তামাম বিশ্বের রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে লাগাতার দুবার, ২০১৯ সালেও দিল্লি দ্বিতীয় দূষিততম শহর রুপে চিহ্নিত।সুইজারল্যান্ডের আইকিউ এয়ার ভিজিবল সংস্থা হতে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুসারে পৃথিবীর সবথেকে বেশি দূষিত ৩০ টা শহরের ২১ টাই ভারতবর্ষে। দ্য স্টেট অফ গোবর গ্লোবাল এয়ার ২০১৯এর রিপোর্ট হতেও দেখা যাচ্ছে ভারত ও চীন উভয় দেশের প্রতি বছর প্রায় ১২লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন শুধুমাত্র দূষিত বাতাসের কারণে। সরিকভাবে শুধুমাত্র বায়ু দূষণই নয় জল মাটি সহ পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষেত্র আজ নানা কারণে নানা ভাবে চরম দূষণের শিকার এবং তাঁরই শুধু প্রসারি কারণেই আজ মানব সমাজ নানাভাবে বিপর্যস্ত। তাই করণ মহামারীর এই বিপর্যয় চরম দক্ষিণপন্থী শাসক ফুলের এমন আত্মঘাতী প্রতারণামূলক সর্বনাশা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকল অংশের মানুষের সচেতনতা বাড়ানো ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ জন বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মীদের আশু দায়িত্ব হওয়া উচিত। জীবন জীবিকার যন্ত্রণায় বৃদ্ধ শ্রমজীবী জনগণকে বিভ্রান্ত করেই এমন নানা অপকর্ম সংঘটিত করার কৌশলী চক্রান্ত সৃষ্টি করবে কর্পোরেটের পদলেহনকারী উগ্র দক্ষিণ পন্থী শাসকগণ।সার্বিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা ও অধিকারের প্রশ্নও। কোনওটাই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়,তাই শ্রমজীবী মানুষকে সাথে নিয়ে এ লড়াইয়ে অগ্রসর হতে হবে।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *