Nandini Das
Featured পাঠকের কলমে সূচনা

‘পুরানো সেই দিনের কথা’

নন্দিনী দাস:- স্কুলের সেই দিনগুলো
মনে পড়ে যেদিন টলমল পায়ে ছোটো স্কুল ব্যাগ পিঠে চাপিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম মা-বাবা র হাত ধরে? আমার মনে আছে, খুব কেঁদেছিলাম সেদিন। আশেপাশে নিজের মত আরও অনেকে ছিল, তাদের মধ্যে কেউ হাসছিল, কেউ আমার মতই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছিল। সেই প্রথম ঘর থেকে বাড়ি থেকে মা-বাবাকে ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে কয়েক ঘন্টা কাটানো। ম্যাম-স্যার সবাই সেদিন খুব আদর, ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিল। ঐ মা-বাবার হাত ছেড়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন খুব ভয় করছিল। অতজন অজানা-অচেনা মানুষদের সাথে কখনো কোনোদিন কাটাইনি।আস্তে আস্তে ভয়টা কাটল।প্রার্থনা লাইনে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে গান করতে শিখলাম। কত জানা-অজানা রঙিন বই-খাতা, তাতে সুন্দর করে মলাট দেওয়া, ওপরে লেবেল আটকানো, নাম, ক্লাস, সেকশন, স্কুলের নাম লেখা। এই পুরো বিষয়টা এত অদ্ভুত আর এত সুন্দর লেগেছিল যে কান্নাটা বন্ধ হয়ে গেছিল।
প্রথম দিনের স্কুল শেষে ছুটি হল। মা-বাবা বাইরে অপেক্ষা করছে আর সেই একটাই প্রশ্ন, “বাবু, কেমন লাগল? ম্যামরা ভালো, ভালো হয়ে থেকেছ তো? দুষ্টুৃমি করনি তো? “পরের কয়েকদিন একটু আড়ষ্টতা ছিল, কিন্তু তারপর নিজেই বায়না করতাম স্কুল যাব। ওখানে গেলে মজা হবে, দেখা হবে বন্ধুদের সাথে। পড়া পারব কি পারব না, সেই আতঙ্কে দিন কাটলেও পরে বেশ মজা লাগত, ঐ কান ধরে বাইরে বের করে দিলে ইশারায় বন্ধুকে ডাকতাম, তুই ও বাইরে আয়। একটা সময়ে ক্লাসরুমের বাইরের করিডরটা আমাদের গল্প করার, আড্ডা মারার প্রিয় জায়গা হয়ে উঠল। গল্প, কান্নাকাটি, মারপিট, ঝগড়াঝাটি সবকিছু ওখানে হত। আর পড়ার সিলেবাসে, নাম্বারের আশায় যখন বন্ধুত্বে প্রতিযোগিতার গল্পগুলো ঢুকে যেত, তখন মনে হত, স্কুলটা শেষ হলে বেঁচে যাই, আর তখন সবাই বলত, স্কুলটা শেষ হলে স্কুলের মর্মটা বুঝবি। তখন মনে হত একদমই না, কলেজের স্বাধীনতা, স্বাদ অনেক বেশি।ওখানে নিজের ইচ্ছেমত জামাকাপড় পরা যায়, চুলের কায়দা দেখানো যায়, অপছন্দের ক্লাসগুলো না করে বাড়ি আসা যায়, বন্ধুদের সাথে স্বাধীনভাবে মজা করা যায়, আনন্দ করা যায়।
এইভাবেই স্বাধীনতার দিনের কথা ভাবতে ভাবতে স্কুলের দিন শেষ হয়ে গেল। পছন্দ-অপছন্দের ম্যাম, স্যার ছেড়ে চলে আসার দিন যখন এল, চোখের সামনে পরপর যেন অতীতটা ভেসে উঠতে লাগল, এই অতীত ধূসর নয়, এই অতীত বর্ণময়, যেন সামনের ধূসর রঙের ভবিষ্যতে সারাক্ষণ ধরে রং ছড়ানোর জন্য তৈরি হয়েছে।শেষদিনটাতে যখন জুনিয়াররা ফেয়ারওয়েল দিচ্ছিল, খুব কান্না পাচ্ছিল।জীবনের সবচেয়ে বেশিসময় একসাথে যে বাড়িটাতে কাটিয়েছি, একসময় যে বাড়িটা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দিন গুনেছি, সেই বাড়িটার জন্য এত কষ্ট হচ্ছে, এত মায়া লাগছে। তখন মনে হচ্ছিল, থেকে যাই এখানে, কি হবে আরও একটু বকা খাব, মার খাব, মা-বাবাকে ডেকে বলা হবে, আপনার ছেলেমেয়েকে সামলান, তা ও তো আগলে থাকব,যেমনটা নিশ্চিন্তে থাকতাম।
“It was the best of the times and it was the worst of the times”, Charles Dickens বলেছিলেন। কলেজে উঠলাম, ঠিক যেগুলোকে স্বাধীনতা বলে ভাবতাম সেগুলো করাও শুরু করলাম, কিন্তু মজা, আনন্দ ঐগুলো উপভোগ করতে পারলাম না।পুরনো বন্ধু যে যার মত ছিটকে গেল, নতুন বন্ধু হল ঠিকই, কিন্তু সেই সংযোগ, সেইরকম বন্ধুত্ব আর হল না।বারবার মনে হত,চলে যাই, চলে যাই। Adjust করতে পারছিলাম না, মনে হল লড়াইয়ের ময়দানে এসেছি, খুব একা। এখানে কেউ জিজ্ঞেস করে না, কি হয়েছে? মন খারাপ কেন, আসিসনি কেন, আর জিজ্ঞেস করলেও ঐরকম বন্ধন আর তৈরি হয় না। স্কুল জীবনের সব বন্ধুরাও আর যোগাযোগ রাখেনি, একটা গ্রুপ খোলা আছে এখন what’s app এ, সেখানে ও কেউ তেমন কথা বলে না, কারণ সবাই ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে। সময় সব তৈরি করে আবার সবটা বদলেও দেয়। কিন্তু কিছু বন্ধুদের সাথে সম্পর্কটা থেকে গেছে, থেকে যাবে।স্কুলবাড়ি, বেঞ্চের আঁকা ঐগুলো থেকে যাবে নিজের সাথে, জীবনের সাথে। ওটাই শুরু আর ওখানেই ফিরে যেতে পারলেই হয়ত জীবনের বৃত্তটা সম্পূর্ণ হবে।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *