nandini Das
Featured পাঠকের কলমে সূচনা

কোথায় আছি আমরা?

নন্দিনী দাস:- সারা বিশ্বজুড়ে মহামারির আকার ধারণ করেছে ‘করোনা’ ভাইরাস। প্রথমে চীন ও তারপর ইতালি মারাত্মকভাবে বির্পযস্ত হওয়ার পর ভারতবর্ষেও এই ভাইরাসের আঁচ এসে পড়েছে। গোটা দেশ জুড়ে ২২ শে মার্চ থেকে লকডাউন চলছে, মেয়াদ আপাতত ১৪ ই এপ্রিল, কিন্তু যে পরিমাণে ভাইরাসের প্রকোপ এবং মৃত্যুসংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই লকডাউন বেশ আরও কয়েকদিন চলবে বলে সবার ধারণা।
ভারতবর্ষ সংস্কৃতিপ্রধান এবং ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশ।বিজ্ঞানের ওপর যেমন ভরসা রাখি, তেমনি অধিকাংশ ঘরে প্রদীপ, ধূপের সমারোহে আরতিও হয় দেশবাসীর মঙ্গলকামনায়। এই মহামারি থেকে বাঁচার কোনো উপায় এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, কোনো ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত আবিস্কার করা যায়নি, কেবল কিছু সর্তকতামূলক ব্যবস্হা নেওয়ার কথা আর বাড়িতে থাকার কথা বলা হয়েছে।
বাড়িতে এতদিন থাকাটা সত্যিই সমস্যা তৈরি করেছে, কিন্তু এছাড়া সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার আর কোনো রাস্তা আমাদের জানা নেই। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই তাঁর মন-কি-বাতে দেশবাসীদের দুটি টাস্ক দিয়েছিলেন, মানে ঐ হোমওয়ার্ক। আমাদের দিন-রাত এক করে সেবা শ্রুশুষা করা ডাক্তার, নার্স, মেডিক্যাল স্টাফ, তাঁদের সকলের উদ্দেশ্যে বিকেল পাঁচটায় হাততালি দেওয়া বা থালা বাজানো এবং দ্বিতীয় কাজটি ছিল একশো তিরিশ কোটি দেশবাসী যে হাতে হাত ধরে একত্রে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তার এক চিহ্ন হিসেবে ৫ই এপ্রিল রাত ৯টার সময় ৯ মিনিটের জন্য মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট বা প্রদীপ বা মোমবাতি বাড়ির মধ্যে থেকে বাড়ির বারান্দায় জ্বালাতে হবে এবং এই পুরো নয় মিনিট বাড়ির সমস্ত বৈদ্যুতিক আলো বন্ধ করে রাখতে হবে।
জাতির উদ্দেশে, জনস্বার্থের উদ্দেশ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী কখনো খারাপ চাইবেন না, এটাই কাম্য। কিন্তু দেশের কিছু প্রান্তে দুটো ঘটনা যেরকম বিশৃঙ্খলাপরায়ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা কতটা যে সুস্হ মস্তিষ্কপ্রসূত কাজ সেটাই ভেবে দেখার।কোনোরকম জমায়েত করা থেকে বিরত থাকার কথা WHO, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, নিউজ চ্যানেল বারবার বলে এসেছে এবং এখনও সেটাই বলা হচ্ছে।প্রথম টাস্কে দেখা গেছে কিছু জায়গায় লোকজন কাঁসর-ঘন্টা, থালা-বাটি নিয়ে রাস্তায় মিছিল বার করেছেন। কোনো কোনো জায়গায় শব্দবাজি ফাটিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, “আসছে বছর আবার হবে”। এইসব কান্ডকারখানা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভিডিও আসতে থাকে যা আপাতদৃষ্টিতে এটা মনে করায় যেন দেশে উৎসবের আমেজ চলছে। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় টাস্ক এসে হাজির হয়।অনেকেরই পূর্ব আশঙ্কা ছিল যে এইবারও একটা বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে। কিছু গুজব ছড়ায় যে নয় মিনিটের জন্য দেশব্যাপী বিদ্যুতের আকাল দেখা যাবে, পাওয়ার কাট হয়ে যাবে।পরবর্তীকালে, বিদ্যুৎ পর্ষদের তরফ থেকে জানানো হয় যে,এইরকম কোনোকিছুই হবে না, কারণ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোমে অসংখ্য চিকিৎসাধীন মানুষ রয়েছেন। তাদের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে কোনোরকম কোনো পাওয়ার কাট হবে না। তবে, রাত ন’টায় নয় মিনিটের জন্য এইরকম কাজ করা কতটা যুক্তিসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কেউ কেউ বলেই বসেন, মূল সমস্যার সমাধান না করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গতকাল রাতে সারা দেশের অসংখ্য মানুষ এই কর্মকান্ডে যোগদান করেন। কিন্তু কিছু মানুষের অভব্য আচরণ এই প্রশ্ন তোলে যে, “আদৌ কি আমরা শিক্ষিত”?
প্রদীপ, মোমবাতি, টর্চ বা ফ্ল্যাশলাইট জ্বালানোর কথা বলা হয়েছিল কিন্তু আদতে দেখা যায় যেন এক অকাল দীপাবলির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ছাদে টুনি লাইট জ্বালানোর থেকে বাজি পোড়ানো, ফানুস ওড়ানো, শব্দবাজি ফাটানো এমন কি মশাল নিয়ে রাস্তায় মিছিল, উদ্দাম নাচ সবকিছুই হয়েছে কাল। সামাজিক অবক্ষয় যে কোন পর্যায়ে গেছে তা বলার ভাষা নেই। অনেক মানুষ এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়েছেন, অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন।কিন্তু এতকিছু করেও কোনোকিছুকে আটকানো বা বদলানো যায়নি। এমন এক মহামারির আবহে যেখানে মৃত্যুমিছিল লেগেছে সেখানে এইরকম আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার মানসিকতা কিভাবে আসে সেটাই চিন্তার।
কলকাতা পুলিশ তথা রাজ্যপুলিশ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৫০-৫৫ জন ব্যক্তিকে শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগে গ্রেফতার করেছেন, যা রীতিমত লজ্জার। যেখানে সবাই মিলে সহযোগিতার হাত বাড়াতে বলছেন সেখানে এইরকম কার্যকলাপ সত্যিই লজ্জার।
কেবল তাই নয়, এই কয়েকদিনে দূষণের মাত্রা যতটা কমেছিল, তার থেকে বেশি পরিবেশ কাল দূষিত হল, সেটাও আরেক চিন্তার বিষয়। এইরকম বিকৃত মানসিকতা ভেঙে শহর, রাজ্য, দেশ তথা গোটা বিশ্ব সুস্থ হয়ে উঠুক এটাই এখন প্রার্থনার।
Go corona Go with this sick mentality.

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com  লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *