তাই ভরসা থাকুক ভাতে মাছে

নন্দিনী দাস:- কথায় বলে ভাতে মাছে বাঙালি। কিন্তু কলকাতা  মানে কি শুধুই বাঙালির খাবার? কবি তো বলে গেছেন, “শক হুণ মোগল পাঠান/এক দেহে হল লীন”।
ভারতবর্ষের কলকাতা মনে করি এমন একটি জায়গা যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবরকম খাওয়ার পাওয়া যায়। সকালে ধীরে সুস্হে খেয়ে বাইরে বেরোনোর দিন এখন শেষ। খাওয়ার সত্যি কোনো সময় জ্ঞান নেই। শরীরের ধরণ দেখলেই বোঝা যায় যে, খাওয়ার সময়ের কোনো জ্ঞান নেই, কখনো কখনো খিদে না পেলেও চোখের খিদে আমাদেরকে বলে, ‘খা,খা,খাওয়াই তো জীবন’।
বাঙালি মানে সকালে একটু গরম ভাত, ডাল সেদ্ধ, আলুভাতে খেয়ে বেরোবার ইচ্ছে হয়, কিন্তু সময় নেই, অগত্যা ভাত ডালের স্বপ্ন দেখে পাউরুটি চিবোতে চিবোতে অফিস যাওয়া।কাজের ফাঁকে মুখ তো চলছেই, চিপস্, বাদাম আর কাপের পর কাপ চা বা কফি।কাজের ফাঁকে কেউ খেতে ভুলে যায় আর কেউ কেউ খাওয়ার সময়ের অপেক্ষা করে।
বইপাড়া মানে যেমন কলেজ স্ট্রীট তেমনি অফিসপাড়া মানে বিবাদী বাগ। লাঞ্চের জন্য শহরের রাস্তায় এত ভালো ভালো খাওয়ার পাওয়া যায়, তা না বলে খেয়ে দেখলে বেশি কাজে দেবে। কলকাতা বোধহয় ভারতবর্ষ বা বিশ্বের একমাত্র শহর যেখানে সবচেয়ে কম দামে ভালো মানের খাওয়ার পাওয়া যায়। সে ডেকার্স লেনের চাউমিন হোক বা চিও বাবু দোকানের স্যুপ হোক কিংবা পোদ্দার কোর্টের পেছনের সহজলভ্য চাইনিজ ফুড। ক্যামাক স্ট্রীট কিংবা পাড়ক স্ট্রীটের খাবারের কথা না বললে স্ট্রীট ফুড কে অপমান করা হয়।বাঙালি খাওয়ার হোক কিংবা চাইনিজ ফুড হোক সব খাওয়ার সেরা খাবার বোধহয় বিরিয়ানি আর তার পেছন পেছন আসে ফ্রায়েড রাইস আর চিলি চিকেন।
কিন্তু, খেতে ভালোবাসলেই তো হবে না, সে যে আবার অসুখ ডেকে আনে। ডাক্তাররা এটাই বলছেন, খাদ্যাভাস পরিবর্তনের ফলে শরীরের আধা অসুখ দানা বাঁধছে, সে থাইরয়েড হোক কিংবা ডায়াবেটিস। তাই, খাদ্যরসিক কলকাতাবাসী কলকাতার শ্রেষ্ঠ সন্তান রসগোল্লা, মিষ্টি দই এর থেকে হালকা মুখ ফিরিয়ে থাকলেও পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি আর পারবেনও না। সে যতই ওটস্, মুসলি, সবজি সেদ্ধ, জুস খাওয়া হোক না কেন, সপ্তাহের একদিন ফিরতেই হবে সেইসব শরীরের পক্ষে ভিলেন মার্কা খাবারের কাছেই।

আরও পড়ুন:- ৪৩টা অধ্যায় শেষ করে’

মানুষের জীবনে যেমন একদম সময় নেই, ঠিক এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি কিছু আউটসোর্সিং কোম্পানি গুলো ব্যাঙের ছাতার মত চারদিকে গজিয়ে উঠেছে। কম দামে এত সুন্দর অফার এবং রুচিকর খাবারের প্রতি বয়স বিশেষে সবাই যে আকৃষ্ট হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবুও বাড়িতে নিজের হাতে বানানো খাবারের থেকে স্বাস্থ্যকর খাওয়ার আর কিছুই হতে পারে না। আগে বনভোজনের মরসুম এখন “Sleep over”। সেখানেও মানুষ ভরসা রাখছেন অনলাইনে অর্ডার দেওয়া খাবারের ওপর।আধুনিকতার ধাঁচে মানুষের রুচি পরিবর্তন হয়েছে, আর সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।
যে দেশের খাদ্যের সূচক ১১৩, সেখানে অপরিহার্য খাওয়ার জোগাতেই মধ্যবিত্তের কালঘাম ছোটে, সেখানে বিলাসিতার খোঁজ নেহাতই একটা অতিরিক্ত চিকেনের লেগ পিসের সমান। তাই, খাওয়ার নষ্ট যাতে না হয় সেই বিষয়ে সবক্ষেত্রে সচেতন থাকা উচিত।
ডায়েট ফুডে, বেভারেজ সবই এক, দুদিনের জন্য ভালোলাগে, কিন্তু দীর্ঘসময়ে মন আর শরীর দুটো ভালোরাখতে ভাত-ডাল, রুটি-সবজিতেই ভরসা থাকুক।

 

লাইক করুণ আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com 

ফলো করুণ আমাদের টুইটারে Nabadin24News

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News

সাম্প্রতিক শিরোনাম:

অনুসরণঃ

#Kolkata

পাঠকের প্রতিক্রিয়া একান্ত কাম্য । নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here