Featured পাঠকের কলমে সূচনা

১৭০-তম জন্মদিনে পদার্পণ “সদানন্দ” আনন্দমোহন বসুর

কে আনন্দমোহন বসু? আর কৃতিত্বই বা কি? এই বিষয়গুলি জানতে এবং বুঝতে হলে অভ্যস্ত হতে হবে “র্যাংলার” শব্দটির সাথে।তৎকালীন সময়ে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিক্ষায় সর্বোত্তম নম্বর পেলে, তবেই জুটত এই “র্যাংলার” উপাধি।সৌভাগ্যবসত আমাদের ভারতবর্ষেও এমন একজন যোগ্য মানুষ জন্মেছিলেন যিনি এই উপাধির সংস্পর্শে এসেছিলেন। আর সেই মানুষটি আর কেউ নন এক এবং অদ্বিতীয় “মৃত্যুঞ্জয়ী” আনন্দমোহন বসু।
বঙ্গীয় স্বর্ণযুগের এক উল্লেখ্যযোগ্য নাম ছিলেন আনন্দমোহন বসু। বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ইটনা অঞ্চলের জয়সিদ্ধিতে ১৮৪৭ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই মৃত্যুঞ্জয়ী, তবে ১৯০৬ সালে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটিয়েছিলেন কলকাতায়।

১৮৬২ সালে ময়মনসিংহ জেলার হার্ডিন্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরিক্ষায় নবম স্থান অধিকার করেন খুদে আনন্দ। পরে তিনি পা রাখেন প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং কলেজের এফ.এ এবং বি.এ উভয় পরিক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করেন।মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার সুবাদে “প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ” বৃত্তি লাভ করেন,ফলস্বরূপ ব্রিটেন গিয়ে পড়াশুনার সুযোগও লাভ করে নেন তিনি। দেশে তখন ব্রিটিশরাজ, এহেন পরিস্থিতিতেই দেশের মাটি গায়ে মেখে ব্রিটেন জয় করতে বিদেশে পা রাখলেন আনন্দমোহন। শেষমেশ জয়টা আসল আনন্দমোহনের হাতে ১৯৭৪ সালে “র্যাংলার” উপাধি নিয়ে দেশে ফিরলেন আনন্দমোহন। দেশে ফিরে শুরু করলেন আইনব্যবসা।
পুঁথিবিদ্যা আর জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি রাজনীতিতেও আনন্দমোহন বসু দূরদর্শী ও কার্যঅনুরাগী ছিলেন।ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠনের পিছনেও তার বিশেষ কৃতিত্ব ছিল, ১৮৭৬ সালে তিনি ইন্ডিয়ান এসোসিয়েস্যান তৈরি করেন যা পরবর্তী কালে জাতীয় কংগ্রেসের ভীত হিসেবে পরিচিত হয়।ছাত্রসমাজের মধ্যে দেশপ্রেমের ভাবনা জা পুঁথিবিদ্যা আর জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি রাজনীতিতেও আনন্দমোহন বসু দূরদর্শী ও কার্যঅনুরাগী ছিলেন।ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠনের পিছনেও তার বিশেষ কৃতিত্ব ছিল, ১৮৭৬ সালে তিনি ইন্ডিয়ান এসোসিয়েস্যান তৈরি করেন যা পরবর্তী কালে জাতীয় কংগ্রেসের ভীত হিসেবে পরিচিত হয়।

ছাত্রসমাজের মধ্যে দেশপ্রেমের ভাবনা জাগিয়ে তুলতে তিনি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন গঠন করেছিলেন ১৮৭৫ সালে। ব্রাক্ষ্ম ধর্মের প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল, স্বয়ং কেশবচন্দ্র সেনের থেকে তিনি সস্ত্রীক ব্র্যাহ্ম ধর্মের দীক্ষা নেন। ১৮৫৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তৈরি হলে তিনি সক্রিয় কার্যকলাপে অংশ নেন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির সাথে। পরবর্তী কালে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে দুই বার নিযুক্ত হন দেশভক্ত আনন্দমোহন।
কালের প্রভাবে বাঙালি সমাজ ভুলতে বসেছে এই ব্রিটেনজয়ী প্রতিভাকে।ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে তার পৈতৃক ভিটেজমি তার পাশাপাশি জমিদারি মহল জমি এবং আদিবাড়ি।একশসত্তরতম জন্মদিনে পুনরায় সবিনয়ে স্মরণ করি রাঢ় বাংলার একমাত্র “র্যাংলার” আনন্দমোহন বসুকে।

খবরের সাথে থাকতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ Nabadin.com লাইক করে সাথে থাকুন। সাথে ট্যুইটারে Nabadin24News আমরা পৌঁছে যাব আপনার কাছে। আর এখন থেকে সব খবরের বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইউটিউব ভিডিওতে। তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Nabadin News  সাবস্ক্রাইব করে সবসময় থাকুন খবরের সঙ্গে৷ আর আমরা আছি আপনার জন্য।

সাম্প্রতিক শিরোনাম:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *